দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাগুরার শালিখা উপজেলার কাগজে-কলমে থাকা একটি কলেজের নামে দেড় কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ দেওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানটিতে নেই নিয়মিত পাঠদান, নেই সরকারি স্বীকৃতি, এমনকি সাইনবোর্ডও নেই। তবু ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রী ও মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর ডিও লেটারের ভিত্তিতে।
রোববার (১২ জুলাই) সরেজমিনে উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের চুকিনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মুন্সী শহিদুর রহমান বিএম কলেজ নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো বলতে ধানচাতালের পাশে দুটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘর এবং উপজেলা পরিষদ থেকে দেওয়া কয়েকটি বেঞ্চ। চারপাশ আগাছায় ভরা, কোথাও নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমের দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন নেই।
জানা গেছে, গত অর্থবছরের শেষে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর মাগুরার দুই সংসদীয় আসনের ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য দেড় কোটি টাকা করে মোট ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে মুন্সী শহিদুর রহমান বিএম কলেজের জন্যও দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ভবনের নকশা প্রস্তুতের লক্ষ্যে মাটি পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করেছে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ।
তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, শালিখা উপজেলায় এ নামে কোনো এমপিওভুক্ত বা সরকারি স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। স্থানীয়ভাবে কলেজটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলেও একাডেমিক স্বীকৃতি না পাওয়ায় এর কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান মুন্সী শহিদুর রহমানের নামে তাঁর ছেলে মুন্সী কামরুজ্জামান নবাব ২০১৮ সালে প্রায় ৫০ শতাংশ জমির ওপর দুটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে কলেজ চালুর উদ্যোগ নেন। শুরুতে অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও স্বীকৃতি না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে পড়ে।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ পরিচয়দানকারী মুন্সী কামরুজ্জামান নবাবের বিরুদ্ধে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরির আশ্বাস দিয়ে জনপ্রতি দুই থেকে তিন লাখ টাকা নেওয়া হলেও পরে কোনো বেতন-ভাতা বা অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মুন্সী কামরুজ্জামান নবাব বলেন, সরকারি অনুমোদন না থাকায় খণ্ডকালীন শিক্ষক নেওয়া হয়েছিল, টাকার বিনিময়ে কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, বর্তমানে কলেজে ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, দুটি শিফটে পাঠদান চলছে এবং চলতি বছর ৭০ জন শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
শালিখা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে মোবারক বলেন, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির মোট ১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। বাস্তবে নিয়মিত পাঠদান না থাকলেও কাগজপত্রে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলমান দেখানো হচ্ছে।
মাগুরা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সরকার হারুন অর রশিদ বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটি নির্বাচন করেছে। জরিপ ও মাটি পরীক্ষার প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত নয়। বরাদ্দের বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই, কারণ এটি মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছে।
যে আই