দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ গুমের অভিযোগে করা মামলার ‘নিহত’ যুবককে দুই বছর পর জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া যুবক মোস্তফা কামাল (২৮) শেরপুর জেলার বাসিন্দা। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি কুলিয়ারচরে নানাবাড়িতে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে মোস্তফা কামাল নিখোঁজ হন। পরে তার মা মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, ছেলেকে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়েছে। এ অভিযোগে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় বাজিতপুরের ঠিকাদার জামান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়। অভিযোগ ছিল, মোস্তফা কামালের সঙ্গে তার কয়েক লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন ছিল। ওই মামলায় জামান মিয়া প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশের সন্দেহ হলে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গত ৯ জুলাই রাতে গাজীপুরের গাছা থানার ডেগেরচালা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানকার একটি বাসা থেকে মোস্তফা কামালকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, তিনি সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন। এ সময় তিনি বিয়ে করে নতুন সংসারও গড়ে তুলেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মঞ্জরুল হক বলেন, মোস্তফা কামালের আত্মগোপনের বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যরা জানতেন। তবে গত দুই বছরে তারা এ তথ্য পুলিশকে জানাননি। মোবাইল কললিস্ট পর্যালোচনায় পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঠিকাদার জামান মিয়া বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধ না করেও চার মাস জেল খেটেছি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ বিষয়ে মোস্তফা কামালের পরিবারের সদস্যরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/