দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা ডালিম বেগম দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে অসুস্থ স্বামী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে চরম মানবিক সংকটের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। ভাঙাচোরা ঘর, বিদ্যুৎহীন বসতবাড়ি এবং বর্ষা এলেই ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় বছরের কয়েক মাস প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তারা।
ডালিম বেগম বলেন, ‘বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে আকাশে মেঘ দেখলেই ঘরের সবাই অন্যের ঘরে চলে যাই। আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে থাকি। স্বামী অসুস্থ হওয়ায় পরিবারে কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নেই। সরকারি খাদ্য সহায়তা আর মানুষের দান-অনুদানে আল্লাহ যেভাবে চালান, সেভাবেই বেঁচে আছি।’
তিনি জানান, তার স্বামী কবির ঢালী একসময় দিনমজুর হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন। তাদের পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। প্রায় ১৩ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় কবির ঢালী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার জন্য পরিবারের সব জমিজমা বিক্রি করা হলেও অর্থের অভাবে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে তিনি কর্মক্ষমতা হারিয়ে শয্যাশায়ী।
ডালিম বেগমের ভাষ্য, ‘১৩ বছর ধরে অসুস্থ স্বামীর সেবা করছি। এত কষ্টে আছি, যা কাউকে বুঝিয়ে বলা সম্ভব না।’
তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পারায় প্রায় এক যুগ আগে তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘরের টিনের চালা ও বেড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। ঘুমানোর মতো একটি চৌকিও নেই। অসুস্থ স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে মাটির মেঝেতেই রাত কাটাতে হয়। ফলে ঠান্ডাজনিত নানা রোগে প্রায়ই ভুগতে হয় পরিবারের সদস্যদের।
ডালিম বেগম বলেন, ‘মেম্বর সাহেব আমাদের একটা নাম দিয়েছেন, তাতে চাল পাই। তিনি এক বান ঢেউটিনও দিয়েছেন। কিন্তু এতে ঘর মেরামত করা সম্ভব হয়নি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মঞ্জুর শরীফ বলেন, কবির ঢালীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে রয়েছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করার পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছ থেকেও সহায়তা সংগ্রহ করে দিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে পরিবারটিকে সরকারি চাল, এক বান ঢেউটিন এবং তিন হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ঘরের অবস্থা এতটাই খারাপ যে কয়েক বান ঢেউটিন প্রয়োজন। পরিবারটি খাবার জোগাড় করবে, নাকি ঘর মেরামত করবে—এই সংকটেই দিন কাটাচ্ছে।’
স্থানীয়দের মতে, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে চরম মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে তাদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। একটি নিরাপদ বসতঘর ও নিয়মিত জীবিকার ব্যবস্থা করা গেলে পরিবারটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’
এমএম/