দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুরের গারো পাহাড়ঘেঁষা ঝিনাইগাতী উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। একসময় শখের বশে লাগানো কয়েকটি চারা এখন পরিণত হয়েছে লাভজনক বাগানে। স্থানীয়দের আগ্রহও বাড়ছে এই উচ্চমূল্যের ফল চাষে।
ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ভারুয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হামিদুল্লাহ ২০০৭ সালে নরসিংদীর বেলাব উপজেলা থেকে কয়েকটি লটকনের চারা এনে নিজের বাড়ির পাশের পতিত জমিতে রোপণ করেন। প্রায় সাত বছর পর গাছে প্রথম ফল আসে। ফলন ভালো হওয়ায় তিনি ধীরে ধীরে বাণিজ্যিকভাবে লটকনের বাগান গড়ে তোলেন।
বর্তমানে তার বাগানে শতাধিক লটকনগাছ রয়েছে। এর মধ্যে চলতি মৌসুমে ৫১টি গাছের ফল বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা আয় করেছেন।
সম্প্রতি বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকা লটকন। বিভিন্ন এলাকা থেকে ফল ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাগানে এসে ফল কিনছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর দর্শনার্থীদেরও ভিড় বাড়ছে।
হামিদুল্লাহ বলেন, শুরুতে অনেকেই এ অঞ্চলে লটকন চাষ সফল হবে না বলে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। এখন প্রতিবছর ভালো আয় হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তার ভাষ্য, লটকন গাছের পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ। তবে গাছ পরিপূর্ণভাবে ফল দিতে প্রায় ১০ বছর সময় লাগে। এরপর উৎপাদন ক্রমেই বাড়তে থাকে।
স্থানীয় শ্রমিক মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, বাগানের পরিচর্যার কাজ করে তিনি নিয়মিত আয় করছেন। হামিদুল্লাহর দেখাদেখি এলাকায় আরও কয়েকটি লটকনের বাগান গড়ে উঠেছে, যেখানে স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক মো. আব্দুস সালাম জানান, তিনি ইতোমধ্যে নিজের জমিতে লটকনের চারা রোপণের প্রস্তুতি নিয়েছেন। একইভাবে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সিফাত হোসেন বলেন, পাহাড়ি পরিবেশে লটকনের রোগবালাই কম হয় এবং পরিচর্যাও সহজ হওয়ায় তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে।
স্থানীয় শিক্ষক মো. আবুল কাশেম বলেন, বাগানের লটকন আকারে বড়, সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। এই ফলের বাণিজ্যিক চাষের সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল।
ভয়েজ অব ঝিনাইগাতীর সভাপতি জাহিদুল হক মনির বলেন, পাহাড়ে ফলভিত্তিক কৃষি সম্প্রসারণ পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের পাশাপাশি কৃষকের আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষ সম্প্রসারণ হলে পাহাড়ি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।
শেরপুরের জেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাখওয়াত হোসেন বলেন, লটকন একটি উচ্চমূল্যের লাভজনক ফল। পাহাড়ি এলাকার মাটি ও আবহাওয়া এ ফল চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জে আই