দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাঙামাটিতে প্রকৃতি যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। গত রোববার থেকে শুরু হওয়া টানা তিন দিনের অবিরাম বর্ষণে পাহাড়ের বুক চিরে ধেয়ে আসছে অশনিসংকেত। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জেলায় ‘অতিভারী’ বর্ষণ হচ্ছে—যার পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে ১৯০.৩ মিলিমিটার । এই বৃষ্টির তোড়ে ফের পাহাড় ধসের আশঙ্কায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারি হাজারো মানুষের চোখে-মুখে এখন ২০১৭ সালের সেই ভয়াবহ স্মৃতি ।
ইতোমধ্যেই বৃষ্টির তাণ্ডবে বাঘাইছড়ি উপজেলায় পাহাড় থেকে পড়া গাছের আঘাতে একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রবল বর্ষণে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো পাহাড় ধস, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়া এবং সড়ক তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে ।
পাহাড়ের এই মরণফাঁদ থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পুরো জেলায় মোট ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যার মধ্যে রাঙামাটি শহরেই রয়েছে ১১টি ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অবিরাম মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে ।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন জানিয়েছেন, একটি মানুষেরও যেন প্রাণহানি না ঘটে সেই লক্ষ্যেই আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সরকারি হিসেবে জেলায় ১০০টিরও বেশি এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ২৯টিই রাঙামাটি শহরে অবস্থিত । রূপনগর, শিমুলতলী ও মুসলিম পাড়ার মতো এলাকাগুলোতে পাহাড়ের পাদদেশে জীবন বাজি রেখে বসবাস করা প্রায় ২১০ জন মানুষ ইতোমধ্যে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ।

আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেওয়া নুর জাহান বেগম তার ঘর হারানোর ভয় নিয়ে বলেন, বৃষ্টির তীব্রতায় ঘরের খুঁটি মাটি থেকে সরে যাওয়ায় নাতিকে নিয়ে তিনি লোকনাথ মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছেন ।
একই কেন্দ্রে আসা মো. শুক্কুর জানান, রাতের আঁধারে বৃষ্টির বাড়বাড়ন্ত দেখে প্রাণের ভয়ে তারা সপরিবারে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে এসেছেন ।
২০১৭ সালের ১৩ জুন পাহাড় ধসে ১২০ জনের প্রাণহানির সেই স্মৃতি আজও ভুলতে পারেনি রাঙামাটিবাসী । সেই ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধে এখন একটাই প্রার্থনা থেমে যাক এই বৃষ্টি ।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজীব হোসেন জানান, সোমবার সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। উপজেলার ৩৯টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ যেন নিরাপদে থাকেন, সেজন্য প্রশাসন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
মো. রাজীব হোসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দারা নিজেরা স্বেচ্ছায় সরে না আসলে জানমালের সুরক্ষায় আইন প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হবে। পাহাড়ধসের সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জুনে কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণের ফলে কাউখালীতে ভয়াবহ পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে ২১জন নিহত হয়েছিলেন।
কে