দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুরে শ্বশুরবাড়িতে আলী রেজা (২৫) নামে এক সাবেক ছাত্রদল নেতার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলছে ধোঁয়াসা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে শহরের পৌর ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আলী রেজা শহরের বাগরাকসা এলাকার কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. শহিদুল ইসলাম কালুর ছেলে। তিনি জেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রেজাকে হত্যার পর সেটিকে আত্মহত্যা বলে চালাতে চাইছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।
জানা যায়, ছাত্রদল নেতা আলী রেজা প্রায় ৩ মাস আগে পরিবারের অমতে সিকিউরিটি গার্ড মো. লুৎফর রহমানের মেয়ে লুৎফুন্নাহার লোপাকে বিয়ে করেন। স্ত্রীকে নিয়ে রেজা শহরের ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় তার শ্বশুরের ভাড়া বাসায় থাকতেন। সোমবার ভোর ৪টার দিকে রেজাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন এবং তার পরিবারের লোকজনকে জানায়, সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। খবর পেয়ে রেজার পরিবারের লোকজন হাসপাতালে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পান।
পরিবারের অভিযোগ, রেজাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
আলী রেজার ভাই আলী হাসান ও চাচা একাব্বর আলী অভিযোগ করে বলেন, এই বিয়েতে আমরা রাজি ছিলাম না। ওই মেয়েটা আমার ভাইকে ফুঁসলিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে। পরে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ওই মেয়ের আরও দুই জায়গায় বিয়ে হয়েছিল। আগের দিকের বাচ্চাও আছে। তারা আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে লুৎফর রহমান ও লুৎফুন্নাহারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক খালিদুজ্জামান সিদ্দিকী আসিফ জানান, শেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আলী রেজাকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, প্রথমে পরিবার মরদেহ ময়নাতদন্ত করাতে চাননি। তাই তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছিল। তবে তারা এখন ময়নাতদন্ত করাতে চাচ্ছেন। তাই মঙ্গলবার বিকেলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আপাতত এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কে