দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বরিশালে একটি ডেভেলপার কোম্পানির চেয়ারম্যানকে মারধর ও নির্যাতন করে স্ট্যাম্প ও চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতে মামলা করেছেন। অভিযোগে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (৫ জুলাই) সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যবসায়ীর অফিসকক্ষে কয়েকজন ব্যক্তি প্রবেশ করে তাকে মারধর করছেন এবং চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্যাতনের অভিযোগকারী মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদার বাকলা ডেভেলপার্স প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং অগ্রণী হাউজিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।
মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদার দাবি করেন, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু, আবুল কালাম আজাদ ও আব্দুল মালেক দুররানী তার পূর্বপরিচিত এবং ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদ ২০২৩ সালে বাকলা ডেভেলপার্স প্রাইভেট লিমিটেডের সব শেয়ার বিক্রি করে দেনাপাওনা বুঝে নেন। অন্যদিকে, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আব্দুল মালেক দুররানী অগ্রণী হাউজিং কোম্পানির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, যে কোম্পানির কার্যক্রমের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৭ জুন রাতে বাকলা ডেভেলপার্সের কার্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্তরা তাকে মারধর করেন এবং জোর করে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেন। পরে তারা থানায় তার বিরুদ্ধে পাওনা টাকার অভিযোগ দেন, যার ভিত্তিতে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মারধরের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সুস্থ হয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন। বর্তমানে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আবদুল রশীদ খান বলেন, ‘বাদীকে মারধর করে একটি লিখিত ও একটি ব্ল্যাংক চেক এবং ছয়টি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। ঘটনার ভিডিও আদালতে উপস্থাপন করার পর আদালত এফআইআর গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।’
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, পাওনা টাকা না পাওয়ায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদার তাদের পাওনা অর্থ আত্মসাৎ করে রেখেছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু ভিডিওতে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে যুবদল নেতা হিসেবে উল্লেখ করায় সংবাদ সম্মেলন করেছে বরিশাল মহানগর ও জেলা যুবদল। সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এইচ এম তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর সঙ্গে যুবদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি দলের কোনো কমিটির সদস্য নন এবং কোনো কর্মসূচিতেও অংশ নেননি।’ তিনি এ বিষয়ে যুবদলের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করেছি। দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
এমএম