দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাদক ব্যবসা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ‘কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে তিনি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
তিনি বলেন, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। তাই অন্যায়কারীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তার অপরাধই বিবেচ্য। যে অন্যায় করবে, তার সঙ্গে তারেক রহমানের বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই এবং থাকবে না।’
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের সিরিজ খাল খনন কাজ পরিদর্শন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে চুড়ামনকাঠিতে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নকাজে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ঠিকাদারদের ওপর কোনো ধরনের অন্যায় চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। আবার উন্নয়নকাজের মানও জনগণকে নজরদারির মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এক নম্বর ইটের জায়গায় নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, পর্যাপ্ত মাটি ভরাট করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় স্থানীয় মানুষকেই খেয়াল রাখতে হবে। ঠিকাদার আমার আত্মীয়, বন্ধু, রাজনৈতিক নেতা কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি এসব বিবেচনার বিষয় নয়। জনগণের দেখার বিষয় হলো, তাদের রাস্তা ঠিকভাবে নির্মাণ হচ্ছে কি না।’
তবে কাজের মান তদারকির নামে কেউ যাতে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা না করেন, সে বিষয়েও সতর্ক করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে রাজনীতি করি। তিনি বলেছেন, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়।’ তাই দেশের স্বার্থে কিংবা দলের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে কোনো অন্যায়কারীর পক্ষে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। যে অন্যায় করবে, তার সঙ্গে তারেক রহমানের বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই, থাকবেও না।”
চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘প্রথমে পরিবারের সন্তানদের মাদক থেকে দূরে রাখতে হবে। এরপর সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, এলাকার রাস্তার দুই পাশে প্রায় সাড়ে চার হাজার গাছ রোপণ করা হবে। স্থানীয়দের অংশগ্রহণে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘শুধু গাছ লাগালেই হবে না, নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে। ভবিষ্যতে এই গাছের ছায়া ও ফল স্থানীয় মানুষই ভোগ করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে। কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ, আধাপাকা রাস্তার উন্নয়ন, পুরোনো সড়কের সংস্কার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং কয়েকটি প্রকল্পে বরাদ্দও দেওয়া শুরু হয়েছে।’
এ সময় তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ইউনিয়নের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কেএম