দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মৌলভীবাজারে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস আব্দুল মতিন (৫৮) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন- নিহতের আপন ভাই আব্দুল মজিদ (৫০), আব্দুল আজিদ (৪৩), আব্দুল রুফ (৫৬), বোন আয়শা আক্তার রত্না (৩৭) এবং আব্দুল মজিদের স্ত্রী তুলি বেগম (৪০)।
পুলিশ জানায়, আব্দুল মতিনের সঙ্গে তার ভাই-বোনদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও মামলা চলছিল। গত ২৮ জুন একটি মামলায় মতিনের আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। সেই সাক্ষ্য ঠেকাতেই তার ভাই আব্দুল মজিদ হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
তদন্তে জানা যায়, ওইদিন সকালে আব্দুল মতিন আদালতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা অভিযুক্তরা তাকে অনুসরণ করে। পথিমধ্যে সুযোগ বুঝে তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে সুন্দর মিয়ার পুকুরের দক্ষিণ পাশের ঢালের পাকা সড়কে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
সন্ধ্যায় আব্দুল মতিন বাড়ি না ফেরায় তার স্ত্রী লাকি আক্তার শেফা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির অদূরে হাত-পা বাঁধা ও গলায় শার্ট পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
খবর পেয়ে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) নোবেল চাকমা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরের নেতৃত্বে সদর মডেল থানার একটি বিশেষ টিম তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কেএম