দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলার পাঁচটি উপজেলার তিস্তা অববাহিকার অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
প্লাবিত হয়েছে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক এবং বাদাম, সবজিসহ চলতি মৌসুমের বিভিন্ন ফসলি জমি। অনেক চরাঞ্চলে ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, সোমবার রাতে ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে তা কমতে শুরু করে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেখানে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তবে ব্যারাজ এলাকায় পানি কমলেও নদীর ভাটির বিভিন্ন এলাকায় এখনো পানির চাপ রয়ে গেছে। ফলে প্লাবিত চরাঞ্চলের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
এদিকে পানি কমলেও নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাউবো জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি অথবা তা অতিক্রম করতে পারে।
হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী চরের বাসিন্দা ফজলুল হক বলেন, রাতে হঠাৎ ঘরে পানি ঢুকে চুলাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভিজে গেছে। পানি কিছুটা নামলেও দুর্ভোগ কাটেনি।
আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা এলাকার কৃষক সোলেমান মিয়া জানান, তার সাড়ে তিন একর জমির বাদাম ও সবজির আবাদ পানিতে তলিয়ে গেছে। নদী নিয়মিত খনন করা হলে এমন ক্ষতি কিছুটা হলেও কমানো যেত বলে তিনি মনে করেন।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার রায় বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি ওঠানামা করছে। পানি বৃদ্ধি ও হ্রাসের ফলে যেসব স্থানে ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ও জলমগ্ন এলাকার মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ২২০ মেট্রিক টন চাল এবং সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
জে আই