দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনে পুলিশি ছত্রচ্ছায়ায় অপরাধ চক্র পরিচালনা, ছিনতাইকারী ভাড়া করে যাত্রী হয়রানি, মাদক কারবার এবং অবৈধ মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগে এ পর্যন্ত চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) দেশের জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল দেশ টিভি-তে এই ‘পুলিশি সিন্ডিকেট’ নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর রেলওয়ে পুলিশ প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
ঢাকা রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার নিকুলিন চাকমা স্বাক্ষরিত পৃথক দাপ্তরিক আদেশে অভিযুক্তদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রত্যাহারকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন— জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. কাইয়ুম আলী, এএসআই মো. রমিজুল হক, কনস্টেবল মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এবং সর্বশেষ সরিয়ে নেওয়া কনস্টেবল মো. মাসুদ রানা।
দেশ টিভির অনুসন্ধানে এই সিন্ডিকেটের মোট ৬ জন সদস্যের নাম উঠে এসেছিল। তবে ৪ জনকে প্রত্যাহার করা হলেও রহস্যজনকভাবে সিন্ডিকেটের বাকি দুই সদস্য— কনস্টেবল মো. হাসান রহমান এবং কনস্টেবল মবিদুলের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী রেলযাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা বাকিদেরও দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত এই পুলিশ সদস্যরা জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ দিন ধরে একটি শক্তিশালী অপরাধ চক্র গড়ে তুলেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ— তারা নিজেরাই ছিনতাইকারী ভাড়া করে সাধারণ যাত্রীদের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নিতেন। এছাড়া এই জংশন এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও মদত দেওয়া এবং আশেপাশের অবৈধ হকার ও দোকানপাট থেকে নিয়মিত মোটা অংকের ‘মাসোয়ারা’ বা চাঁদা আদায়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
যদিও দাপ্তরিক আদেশে এই বদলিকে "প্রশাসনিক কারণ" বা "জনস্বার্থ" হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে মূলত গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষা ও জনঅসন্তোষ এড়াতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
রেলওয়ে পুলিশের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে স্থানীয়রা প্রাথমিক স্বস্তি হিসেবে দেখলেও সচেতন মহলের দাবি কেবল প্রত্যাহার বা বদলিই যথেষ্ট নয়। অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে এই চক্রের প্রতিটি সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর তদন্ত সাপেক্ষে নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ এমন অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার সাহস না পায়।
কে