দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর তীব্র ভাঙনে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। গত কয়েক দিনে কয়েকটি পরিবার ইতিমধ্যে তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে।
রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি গ্রামে তিস্তার ভাঙনে গত দুই দিনে ইদ্রিস আলী, শহিদুল ইসলাম ও আতাউল হকের তিনটি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই গ্রামে আব্দুর রশিদ, বছার উদ্দিন, আব্দুর ছালাম, রব্বানী ও আব্দুল মালেকসহ অন্তত ৪০টি বসতবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ফুলবাড়ী উপজেলার চর গোরকমন্ডল এলাকায় ধরলা নদীর ভাঙনে গত এক সপ্তাহে চারটি পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার, কৃষিজমি এবং প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনা হুমকির মুখে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে দুধকুমার নদের ভাঙনে চার থেকে পাঁচটি পরিবার বসতভিটা সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। তিন উপজেলার শতাধিক পরিবার এখন অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষ বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়বে।
ভাঙনে বসতভিটা হারানো ইদ্রিস আলী, শহিদুল ইসলাম ও আতাউল হক বলেন, ‘চোখের সামনে আমাদের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন মাথা গোঁজারও কোনো জায়গা নেই।’
ফুলবাড়ীর চর গোরকমন্ডলের দিনমজুর মজনু সরকার বলেন, ‘জীবনে পাঁচ-ছয়বার নদীভাঙনের শিকার হয়েছি। শেষ সম্বল বসতভিটাটুকুও এখন নদীগর্ভে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।’
রাজারহাটের রামহরি গ্রামের জাহেরুল ইসলাম বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও কাজের ধীরগতির কারণে স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। লেবার সর্দারের মাধ্যমে কাজ পরিচালনায় কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আয়াজ উদ্দিন জানান, গত এক বছরে নদীভাঙনে শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। নতুন ভাঙনে আরও শতাধিক পরিবার ঝুঁকিতে। তিনি জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা এবং স্থায়ী নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, জেলায় তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের ৩৬টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। চর গোরকমন্ডলে ভাঙনরোধে দুই হাজার জিওব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত বরাদ্দের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। রাজারহাটের রামহরি গ্রামে ছয় হাজার জিওব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এমএম/