দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়া সাংবাদিক মো. আনিচুর রহমানের দায়ের করা মামলার আসামিদের পাল্টা মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানকে ঘিরে ফরিদপুরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে একদল ব্যক্তি মানববন্ধন করে সাংবাদিক আনিচুর রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে তদন্তের দাবি জানান। একইসঙ্গে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করেন।
তবে সাংবাদিক সংগঠন ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাদের মতে, মামলার তদন্ত ও সম্ভাব্য গ্রেপ্তার এড়াতে আসামিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে পাল্টা প্রচারণা চালাচ্ছে।
জানা যায়, এলজিইডির আওতাধীন একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিক আনিচুর রহমানসহ কয়েকজন সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে ওই প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে সংবাদ প্রকাশ না করতে চাপ, ভয়ভীতি ও প্রলোভনের অভিযোগ ওঠে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২০ মে ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালে অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে গেলে সাংবাদিক আনিচুর রহমানের ওপর হামলা হয়। অভিযোগে বলা হয়, হাসপাতালে ১০ তলায় উঠে গেলেও সেখানে তাকে মারধর করা হয়। ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত আছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ঠিকাদারসহ ৮ থেকে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর কোতয়ালী থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
এর আগে ৬ জুন ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিক সমাজ মানববন্ধন করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
সাংবাদিক আনিচুর রহমান বলেন, “অনিয়মের অনুসন্ধান করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি পেয়ে আসছি। পরে হামলার শিকার হয়ে মামলা করেছি। এখন মামলার অগ্রগতি ঠেকাতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”
ফরিদপুরের একাধিক সাংবাদিক বলেন, অভিযোগ থাকলে তা আইনগতভাবে উপস্থাপন করা উচিত। তবে মামলার পর আসামিদের মানববন্ধন ও পাল্টা অভিযোগ জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সাংবাদিক সমাজের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।
জে আই