দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের শেখহাটি তমালতলা এলাকায় স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর স্বামী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৮ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছামিনা আক্তার (২০) তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে। তার স্বামী সুজন হোসেন (২৬) গুরুতর আহত অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, নেশার টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দম্পতির মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। সোমবার ভোরে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে ছামিনাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। পরে একই ছুরি দিয়ে নিজের শরীরেও আঘাত করেন।
চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছামিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাকিরুল ইসলাম বলেন, “ছামিনাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। আহত সুজনের শরীরেও একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।”
নিহতের মামা সম্রাট হোসেন জানান, প্রায় ছয় মাস আগে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের বাসিন্দা সুজনের সঙ্গে ছামিনার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পর তারা ছামিনার প্রবাসী মামার বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
আরেক স্বজন পিয়াস জানান, সুজন বিদেশ থেকে দেশে ফিরে ছামিনাকে বিয়ে করেন এবং আবার বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। নেশার জন্য টাকা না পেয়ে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে পরিবারের ধারণা।
তালবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই তামিম হোসেন বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুজনের ওপর হামলার চেষ্টা করলে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, “নেশার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর সুজন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুজনের বাবা-মাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
জে আই