দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারত থেকে পুশইন করা ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুর পরিচয় ও স্থায়ী ঠিকানা চার দিনেও নিশ্চিত করতে পারেনি বাংলাদেশ ও ভারত। এ ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে দুই দফা কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান মেলেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থান করায় তাদের ভারতীয় নাগরিকত্বের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। ফলে তারা বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বিবেচিত এবং তাদের ভারতে ফিরে যেতে হবে।
বৈঠক শেষে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, তা বাস্তবায়ন করা হবে। তবে গত শনিবার দুপুর ১টার দিকে দুই দেশের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সমাধান না হওয়ায় ভারতীয় শূন্যরেখার জমির আইলের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন পুশইন হওয়া ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে চার দিন ধরে তাদের অবস্থান করতে হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, চার দিন ধরে মানুষগুলোকে এভাবে খোলা আকাশের নিচে রেখে দেওয়া অমানবিক। পুশইন হওয়া কয়েকজনের কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র ও আধার কার্ডও পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নীলফামারী ৫৬ বিজিবির অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিতে পারি না। কেউ বাংলাদেশের নাগরিক হলেও আন্তর্জাতিক আইন ও প্রক্রিয়া মেনে দেশে ফিরতে হবে।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার গভীর রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বেরুবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের প্রতিহত করে সীমান্তের ভারতীয় অংশে আটকে দেন। এরপর থেকে সমাধানের অপেক্ষায় তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
কেএম