দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে ৩৮ বছর আগে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া জবেদ আলি হঠাৎ ফিরে এসেছেন নিজ গ্রামে। তবে দীর্ঘদিনের অভিমান এখনও কাটেনি তার স্ত্রী রুশিয়া খাতুনের ফলে স্বামীর জন্য ঘরের দরজা খুলে দেননি তিনি।
ঘটনাটি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী বাজারের ক্যাম্পপাড়া এলাকায়।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৮৮ সালে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান জবেদ আলি। তখন বাড়িতে ছিলেন তার স্ত্রী রুশিয়া খাতুন ও পাঁচ বছর বয়সী ছেলে জাহাঙ্গীর আলম। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় স্বজনরা একসময় ধরে নেন তিনি আর বেঁচে নেই।
সম্প্রতি বার্ধক্যে উপনীত জবেদ আলি হঠাৎ নিজ বাড়িতে ফিরে এলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্বজনরা তাকে ফিরে পেয়ে আনন্দিত হলেও স্ত্রী রুশিয়া খাতুন বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না। বর্তমানে তিনি নিজের বাড়িতে না থেকে ভাইয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন।
রুশিয়া খাতুনের অভিযোগ, বাড়ি ছাড়ার পর জবেদ আলি আরেকটি বিয়ে করে নতুন সংসার গড়েছিলেন এবং তাকে ও তাদের একমাত্র সন্তানকে অসহায় অবস্থায় ফেলে রেখেছিলেন।
তিনি বলেন, ওই সময় তাকে সব জায়গায় খুঁজেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বুকের সন্তানকে নিয়ে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেছি। মানুষের বাড়িতে এমন কোনো কাজ নেই, যা করিনি। সন্তানকে বড় করতে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করেছি।
রুশিয়া জানান, পরবর্তীতে ছেলে জাহাঙ্গীর আলম কৃষিশ্রমিকের কাজ করে সংসারের দায়িত্ব নেয়। বর্তমানে তিনি কুয়েতে কর্মরত এবং তার আয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
স্বামীকে মেনে নেওয়ার বিষয়ে রুশিয়া খাতুন বলেন, তার ফিরে আসা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। ৩৮ বছর সন্তান নিয়ে অথৈ সাগরে ভেসেছি। তখন কি একবারও তার মনে হয়েছে, ঘরে থাকা নিষ্পাপ শিশুটি কী খাচ্ছে, কীভাবে বেঁচে আছে? এখন সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে, তাই কেন সে এসেছে? ছেলে বিদেশ থেকে ফিরে এলে তার মতামত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে জবেদ আলি স্বীকার করেছেন যে তিনি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কুন্ডুরিয়া গ্রামে দ্বিতীয় সংসার গড়েছিলেন। সেখানে তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, পরিবার ও স্বজনরা যদি আমাকে মেনে নেয়, তাহলে মেয়েকেও এখানে নিয়ে আসব।
দীর্ঘ ৩৮ বছর কোথায় ছিলেন জানতে চাইলে জবেদ আলি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকের কাজ করে জীবন কাটিয়েছেন। তবে কী কারণে তিনি বাড়ি ছেড়েছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি। বিষয়টি তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বলে উল্লেখ করেন।
জবেদ আলির ভাই ও ভাতিজারা জানান, দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ না পাওয়ায় প্রায় তিন বছর আগে তারা ধরে নিয়েছিলেন যে তিনি আর বেঁচে নেই। এরপর খোঁজাখুঁজি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তারা আশা করছেন, পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে স্ত্রী ও ছেলে একসময় জবেদ আলিকে মেনে নেবেন এবং দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকার পর পরিবারটি আবার একসঙ্গে বসবাস করতে পারবে।
জে আই