দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় গোপনে বিয়ে করার পর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। স্বামীর স্বীকৃতি ও আশ্রয়ের দাবিতে ওই নারী স্বামীর বাড়িতে গেলে বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভাঙামোড় ইউনিয়নের উত্তর রাবাইটারী এলাকার বাসিন্দা দুলাল মিয়া ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করার সময় বরিশালের এক বিধবা নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় ছয় মাস আগে তারা ঢাকায় গোপনে বিয়ে করেন। এরপর থেকে তারা একসঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন।
ওই নারী রাশিদা আক্তার সাথী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত। তিনি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নোলছিড়া এলাকার বাসিন্দা।
সাথীর অভিযোগ, বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে দুলাল মিয়া তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
তিনি জানান, সম্প্রতি জানতে পারেন দুলাল মিয়ার আগে থেকেই স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে দুলালের কোনো খোঁজ না পেয়ে মঙ্গলবার সকালে তিনি ফুলবাড়ীতে স্বামীর বাড়িতে যান। তাকে দেখে দুলাল মিয়া বাড়ি থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাথী আক্তার বলেন, ‘দুলাল আমাকে মিষ্টি কথায় বিশ্বাস করিয়ে বিয়ে করেছে। আমি এখন চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সারাদিন বাড়ির সামনে থেকেও স্ত্রী হিসেবে কোনো স্বীকৃতি পাইনি। পরে গভীর রাতে বাধ্য হয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করি।’
স্থানীয়রা জানান, স্বামীর পরিবারের সদস্যরাও ওই নারীকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেননি। সারাদিন অপেক্ষার পরও কোনো সমাধান না হওয়ায় তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।
খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে উদ্ধার করে। পরে স্থানীয় শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে তাকে একই এলাকার একটি বাড়িতে নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করা হয়।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত দুলাল মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
ফুলবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়াছিন আলী বলেন, ‘দুলাল মিয়াকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। আমরা ওই নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় রেখেছি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে। সমাধান না হলে এবং ভুক্তভোগী নারী আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।’
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনার কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ চলছে।
এমএস/