দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যশোর-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম চামড়ার বাজার রাজারহাটে ঈদ-পরবর্তী প্রথম হাটেই সরকারি নির্ধারিত মূল্য না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মৌসুমি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অর্ধেকেরও কম মূল্যে চামড়া কিনছেন আড়তদাররা, ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
শনিবার (৩০ মে) সকালে রাজারহাটে গিয়ে দেখা যায়, খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ীসহ আশপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার চামড়া নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে প্রত্যাশিত সংখ্যক বাইরের পাইকার ও ট্যানারি প্রতিনিধির উপস্থিতি না থাকায় বাজারে বেচাকেনা ছিল অনেকটাই ধীরগতির।
নড়াইলের লক্ষ্মীপাশা এলাকার ব্যবসায়ী রনজিত দাস ৯০টি গরু ও ৫৫টি খাসির চামড়া নিয়ে হাটে এসেছেন। কাঠফাটা রোদে চামড়ার পাশে বসে থাকা এই ব্যবসায়ী জানান, বাড়ি বাড়ি ঘুরে গরুর চামড়া ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং খাসির চামড়া ৫০ থেকে ১৫০ টাকায় কিনেছেন। এর সঙ্গে লবণ, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় যুক্ত হয়ে প্রতিটি গরুর চামড়ায় অতিরিক্ত ১৫০ থেকে ২০০ টাকা খরচ হয়েছে।
তার অভিযোগ, বর্তমানে আড়তদাররা গরুর চামড়ার সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা এবং খাসির চামড়ার ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বলছেন, যা তার ক্রয়মূল্য ও ব্যয়ের তুলনায়ও কম। তিনি বলেন, ‘সরকারি রেট অনুযায়ী প্রতিটি গরুর চামড়ার দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা হওয়ার কথা। অথচ বাজারে তার অর্ধেকও মিলছে না।’
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার বসা এই হাটে ঈদের মৌসুমে লক্ষাধিক চামড়া কেনাবেচা হয়। এবার ঈদ-পরবর্তী প্রথম হাটে প্রায় ১৫ হাজার চামড়া উঠলেও ট্যানারি মালিকদের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে বাজারে প্রত্যাশিত লেনদেন হয়নি।
সরকার চলতি বছর জেলা পর্যায়ে গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬০ টাকা, খাসির চামড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়া ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। সে হিসেবে মাঝারি আকারের গরুর চামড়ার মূল্য ৯৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বড় আকারের চামড়ার মূল্য ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত হওয়ার কথা। কিন্তু যশোরের বাজারে মাঝারি চামড়া ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং বড় চামড়া সর্বোচ্চ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাগেরহাট থেকে আসা ব্যবসায়ী আমজেদ বিশ্বাস জানান, তিনি ৪০০টি গরুর চামড়া নিয়ে এসেছেন। আড়তদাররা প্রতিটি চামড়ার জন্য ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা দাম প্রস্তাব করছেন।
তার বলেন, ‘সরকারি রেট কার্যকর হলে প্রতি চামড়ার দাম ১ হাজার ২০০ টাকার বেশি পাওয়ার কথা। কিন্তু বাজারে তার অর্ধেকেরও কম মূল্য মিলছে।’
আরেক ব্যবসায়ী রোমেন দাসের অভিযোগ, একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর লোকসান গুনতে হচ্ছে। সিন্ডিকেটের কারণে ছোট ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারছেন না।’
তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অস্বীকার না করলেও আড়তদাররা এর জন্য ট্যানারি মালিকদের দায়ী করছেন। স্থানীয় আড়তদার গিয়াজউদ্দিন বলেন, ‘সরকারি রেট অনুযায়ী চামড়া কিনতে হলে আমাদেরও সেই দামে বিক্রি করতে হবে। কিন্তু ট্যানারিগুলো সরকারি দামে চামড়া নিচ্ছে না। লবণ, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় যুক্ত হয়ে প্রতিটি চামড়ায় অতিরিক্ত প্রায় ২০০ টাকা খরচ হয়। ফলে বেশি দামে কেনা সম্ভব হচ্ছে না।’
রাজারহাটের ইজারাদার রাজু আহম্মেদ বলেন, ‘ঈদ-পরবর্তী প্রথম হাট হওয়ায় চামড়ার সরবরাহ ও ক্রেতা—উভয়ই তুলনামূলক কম ছিল।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী হাটে বাইরের পাইকার ও ট্যানারি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি বাড়লে বাজারে স্বাভাবিক গতি ফিরবে।
এ বিষয়ে যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহরিয়ার হক বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া বেচাকেনা নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি করা হচ্ছে। আগামী হাটে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কঠোর মনিটরিং করা হবে।’
/অ