দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঈদুল আজহার কোরবানির মাংস মসজিদে ভাগ হবে নাকি বাড়িতে- এই বিরোধকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিরোধের জেরে অনেকেই ঈদের নামাজ আদায় করেননি। পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে অন্তত ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ঈদগাহ ময়দানে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দারা মোল্লা ও মাতুব্বর এর দুই ভাগে বিভক্ত। মোল্লা পক্ষের নেতৃত্ব দেন কামরুজ্জামান মোল্লা এবং অপরপক্ষের মাতুব্বরের নেতৃত্ব দেন জাহাঙ্গীর মাতুব্বর। সেখানে কোরবানির তিনটি ভাগের যে অংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে বিতরণ করা হয়, সেই অংশ গ্রামের সব মাংস এক জায়গায় করে বিতরণ করা হয়ে থাকে। এবার সেই মাংস মসজিদ থেকে বিতরণ করা হবে নাকি যার যার বাড়ি থেকে বিতরণ করা হবে, এ নিয়ে ঈদের নামাজের শুরুতেই কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
এরপর গ্রামের ‘মোল্লা পক্ষ’ ও ‘মাতুব্বর পক্ষ’এর মধ্যে কথা-কাটাকাটি চরম উত্তেজনায় পৌঁছে যায়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের লোকজন ঈদের নামাজ পড়া বাদ দিয়ে রামদা, ছ্যানদা, ঢাল-সরকি ও ইট-পাটকেলসহ নানা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের সময় গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ছাড়াও অনেকেই ওই হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
আলগী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মজিবর মোল্লা বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঈদের আনন্দের দিনে সামান্য মাংস বণ্টনের বিষয় নিয়ে এমন মারামারি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাছাড়া ঈদের নামাজ বা পশু জবাইও তখন হয়নি।’
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত।
কেএম