দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কয়েক দিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। কিন্তু অন্যান্যবারের মতো শেরপুরের কামারপাড়া সরব হয়ে ওঠেনি। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও এই ঈদে কিছু বাড়তি আয়ের আশায় থাকেন কামাররা। রেডিমেড মালামালের কারণে দা, চাপাতি ও ছুরির চাহিদা একেবারেই কমে গেছে। ক্রেতার দেখা না পেয়ে তাই হতাশ কামাররা।
সোমবার (২৫ মে) শেরপুরের পৌর শহরের মোবারকপুর, আখের মামুদ বাজার, সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের কামারপাড়া ঘুরে দেখা যায়, দুই একটি কামারশালায় কিছুটা কাজ থাকলেও বেশিরভাগই অলস পড়ে আছে।
৪০ বছর ধরে কর্মকার পেশার সাথে জড়িত ভাতশালার কামারাপাড়ার আব্দুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘বাজারে রেডিমেড পণ্য থাকায় এখন আর মানুষ কামারের কাছে আসে না। কেবল বাজার নয়, একশ্রেণির অসাধু কামাররা নিম্নমানের লোহা দিয়ে রেডিমেড মালামাল তৈরি করে গ্রামে গ্রামে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করছে। কিন্তু আমাদের কাছে ভালো লোহা ও মানসম্মত পণ্য সরবাহ থাকে-তাই দামটা একটু বেশি, এজন্য ক্রেতারা এখন আর কামারপাড়ায় আসে না।’
পাশে থাকা তৈমুর কামার প্রায় ৪০-৪৫ বছর ধরে এ পেশায় এসেছেন বাবার হাত ধরে। ৬০ বছর বয়সী তৈমুর কামার বলেন, ‘রেডিমেড মালামালের কারণে আমাদের ব্যবসায় বিরাট ধস। একসময় দিনে আট-দশহাজার টাকা বিক্রি করতাম এ সময়ে অনায়াসেই, এর এখন দুই চারটা কাজ আসে তাও নতুন কাজ নয়। পুরোনোটাকে রিপাইরিং করাতে আসে। আমাদের ছেলেপেলেরা এ ব্যবসা ছেড়ে দিচ্ছে। শিল্পটাকে টিকিয়ে রাখতে হলে রেডিমেড মালামালের লাগাম টেনে ধরতে হবে পাশাপাশি সরকারের সহযোগিতা চাই।’

মোবারকপুর গ্রামের ফরিদ কর্মকার বলেন, ‘সারা বছর কোনোমতে কাজ করে সংসার চালাই। আমরা আশায় থাকি কোরবানির ঈদে বাড়তি আয় করব। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে নতুন কাজ আসে না। পুরোনো মালামাল রিপাইরিং করতে নিয়ে আসে গ্রাহক। তাই সে আশা মনে হয় পূরণ হচ্ছে না। তাছাড়া কয়লা ও লোহার যে দাম, সেই দামের সঙ্গে সমন্বয় করে পণ্য বিক্রি করতে পারছি না। আমরা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমসিম খাচ্ছি। সরকারের সহযোগিতা চাই।’
আব্দুল মান্নান কর্মকার বলেন, ‘হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হয়। তবু যদি আশানুরূপ আয় করতে না পারি, তাহলে এ পেশা ছেড়ে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। সবকিছুর দাম বাড়লেও আমাদের পণ্যের দাম তেমন বাড়েনি। বিভিন্ন কোম্পানির রেডিমেড মালামালের আমাদের ব্যবসায় সর্বনাশ হয়েছে।’
শেরপুর চেম্বার অব কমার্স এর সভাপতি আলহাজ্ব আরিফ হাসান বলেন, ‘আসলে এই দা, ছুরি ও চাপাতি তৈরির পেশার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আয়ের পরিমাণ খুবই কম। বছরের এই ঈদের সময়ে যে অতিরিক্ত আয় হয়, তা দিয়েই কোনো রকম চলে যায় সারা বছর। রেডিমেড মালামালের কারণে তাদের ব্যবসা আর আগের মতো নেই। শত বছরের এই শিল্পকে বাঁচাতে আমাদের এবং সরকারি সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন।’
জেলা বিসিকের উপ পরিচালক আতাউর রহমান বলেন, ‘এসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আমরা ঋণ দিয়ে এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগিতা করবো। জেলা বিসিক তাদের পাশে থাকবে।’
কেএম