দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

‘এই আগুনের পরশমণি তুমি না দিলে আমি অগ্নিবীণা বাজাতে পারতাম না, আমি ধূমকেতুর ন্যায় বিস্ময়ে উদিত হতে পারতাম না।’ জীবনের প্রথম প্রেম কুমিল্লার মুরাদনগরের দৌলতপুরের নার্গিসকে নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আবেগঘন সেই অনুভূতির স্মৃতিবিজড়িত কবিতীর্থ দৌলতপুরে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী।
“দ্রোহের কবি, প্রাণের কবি নজরুল” প্রতিপাদ্যে মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে রোববার (২৪ মে) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় এই জন্মবার্ষিকী। কবির স্মৃতিধন্য দৌলতপুর যেন একদিনের জন্য পরিণত হয় সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চেতনার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে ও শিক্ষিকা শারমিন ফাতেমার সঞ্চালনায় সভাপতির বক্তব্য দেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজা হাসান। তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম দ্রোহের কবি, সাম্যের কবি। তাঁর গান, কবিতা ও সাহিত্যকর্ম যুগে যুগে মানুষের চেতনাকে শাণিত করেছে। অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে তাঁর রচনাবলি আজও অনুপ্রেরণার উৎস। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে তাঁর সাহিত্য বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
স্বাগত বক্তব্যে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সারোয়ার রাব্বী বলেন, ‘নজরুল কেবল একটি নাম নয়, তিনি বাঙালির সাহস, প্রেম, সাম্য ও বিদ্রোহের প্রতীক। তাঁর স্মৃতিধন্য দৌলতপুরে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করতে পেরে উপজেলা প্রশাসন গর্বিত।’
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) এ কে এম কামরুজ্জামান, অধ্যাপক শ্যামাপ্রসাদ ভট্টাচার্য, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, নার্গিসের ভাতুষ্পুত্র বাবলু আলী খান এবং আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঐতিহ্য কুমিল্লার প্রতিষ্ঠাতা ও মাছরাঙা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুলসহ বিশিষ্টজনেরা।
এর আগে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নজরুল মঞ্চ সংলগ্ন কবির ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও উন্নয়ন) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ.বি.এম. মশিউজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন, নজরুল ইনস্টিটিউট কুমিল্লা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলামিন, বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিউল আলম, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম তালুকদারসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অসংখ্য নজরুলপ্রেমী, সুধীজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সন্ধ্যায় মুরাদনগর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা পরিবেশন করেন নজরুল সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশনা। সাংস্কৃতিক আয়োজন ঘিরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো দৌলতপুর এলাকা।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত নজরুল মেলাও ছিল দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। মেলার পূর্বাংশজুড়ে বসে নানা স্টল, যেখানে ভিড় করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কবির স্মৃতিধন্য এই জনপদে দিনভর বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ।
নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে দৌলতপুরে জড়ো হন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নজরুল গবেষক, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা। ফলে কবিতীর্থ দৌলতপুর আবারও পরিণত হয় বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক প্রাণকেন্দ্রে।
কেএম