দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাবনার ঈশ্বরদীতে রাতের আঁধারে পদ্মা নদী ও আশপাশের চরের ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের চর-রূপপুর এলাকায় প্রতিরাতে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে পাশের নেওয়া হচ্ছে একটি ইটভাটায়। এতে তৈরি হয়েছে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা। পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়তে পারে এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাতভর তিন থেকে চারটি এক্সকাভেটর বা ভেকু দিয়ে চর-রূপপুর এলাকার ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। পরে ১০ থেকে ১২টি ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে সেই মাটি পার্শ্ববর্তী ‘এ অ্যান্ড বি’ ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। ইট প্রস্তুতের জন্য মাটির বিশাল স্তূপ করে রাখা হয়েছে ভাটার পাশে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে দিনে মাটি কাটা বন্ধ থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাটি কাটার কার্যক্রম। এতে নদীর চরাঞ্চলের উর্বর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং আবাদি জমির পরিমাণ যাচ্ছে কমে। একই সঙ্গে এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। তাদের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে এতে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা দেখা দিলে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় হতে পারে বড় ধরনের ক্ষতি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেখানে দায়িত্বরত এক কর্মচারী দাবি করেছেন, পুলিশকে ম্যানেজ করেই অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছে। তার ভাষ্য, প্রতিটি এক্সকাভেটরের জন্য প্রতি রাতে পুলিশকে ১৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। তরিকুল নামের এক ব্যক্তি নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে ‘এ অ্যান্ড বি’ ইটভাটার মালিক তরিকুল ইসলামের ভাষ্য, কারা মাটি কাটছে তা তিনি জানেন না। তারা শুধু ভাটার জন্য মাটি কিনে থাকেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত রাতে পুলিশ এসে মাটি কাটার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানিয়েছেন, অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে পুলিশের। দিনের বেলা বন্ধ থাকলেও একটি চক্র রাতের আঁধারে চুরি করে মাটি কাটছে। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল এবং অব্যাহত আছে পুলিশের অভিযান।
কেএম