দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নওগাঁয় পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ‘চাঁদাবাজ’ ট্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন এক কলেজ শিক্ষক। ওই শিক্ষকের নাম মেসবাহুউল হক। তিনি পোরশা উপজেলার নিতপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক পদে কর্মরত আছেন।
এদিকে এর প্রতিবাদে রোববার (১৭ মে) সকাল ১০টার দিকে শহরের এক রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতারণার শিকার হওয়া ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক।
সংবাদ সম্মেলনে মেসবাহুউল হক জানান, ২০০৯ সালে পোরশা উপজেলায় ইটভাটা তৈরির উদ্দেশ্য আশরাফুল আলম নামে এক ব্যক্তির কাছে থেকে ৮ বিঘা জমি লিজ নিতে চাইলে তিনি জমিটি বিক্রি করবেন মর্মে দাম নির্ধারণ করেন ২১ লাখ টাকা। এরপর মেসবাহুউল হকের কাছ থেকে কয়েক দফায় ১৭ লাখ টাকা নেন আশরাফুল। পরে জমিটি রেজিস্ট্রি করার বিষয়ে নানা টালবাহানা শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, ওই জমি অন্যত্র বিক্রির চেষ্টা চলছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে কৌশলে তাকে অন্য স্থানে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে বৈঠক চলাকালে হঠাৎ পুলিশ উপস্থিত হয়।
মেসবাহুউল বলেন, ‘পুলিশ সদস্যদের ৯৯৯-এ কল করে অপহরণের মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে সেখানে পাঠানো হয়েছিল। পরে স্থানীয় থানায় ওসির উপস্থিতিতে সমাধানের চেষ্টা করা হলে পাওনা ১৭ লাখ টাকার মধ্যে তারা মাত্র সাড়ে ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করবে বলে জানায়। আর তা নিতে অস্বীকৃতি জানালে হঠাৎ গত ১৩ মে একটি সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের চাঁদাবাজ এবং অপহরণকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেন আশরাফুল, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। শিক্ষকতার পাশাপাশি ইটভাটা ব্যবসায় সম্পৃক্ত আমি। তাদের এই ট্যাগিংয়ে আমার সম্মানহানি হয়েছে। আশা করছি প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আশরাফুল আলমের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পোরশা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, ‘একজনকে আটকে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ কাউকে আটক অবস্থায় পায়নি। দুই পক্ষের মধ্যে টাকা-পয়সা ও জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তাদের থানায় ডাকা হয়েছিল, তবে তারা নিজেরাই বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন। অপহরণের অভিযোগ সঠিক নয়।’
সংবাদ সম্মেলন পোরশা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল জাভেদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
/অ