দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মুরাদনগরের কামারেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। পশু কোরবানির দা,বটিঁ,চাপাতি, ছুরি তৈরি করে বিক্রির জন্য দোকানে ও দোকানের সামনে সাজিয়ে রাখছেন। এসব লৌহজাত সামগ্রী ৪৫০ থেকে ১২শ'টা টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুরাদনগর উপজেলার ২শ' বছরের পুরনো বাজার রামচন্দ্রপুর বাজার, কোম্পানীগঞ্জ বাজার, মুরাদনগর বাজার, কামাল্লা বাজার,যাত্রাপুর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বাজারে কামারেরাও আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে দা-ছুরি বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রামচন্দ্রপুর বাজারের কামারদের দা,বটিঁ,ছুরি, চাকু, চাপাতি বানাতে নামডাক রয়েছে। তাদের বানানো জিনিসের মান ভালো হওয়ায় সারা বছরের চেয়ে এই সময়ে ক্রেতাদের অর্ডার থাকে বেশী।
দিন-রাত টুংটাং শব্দে মুখরিত এখন সবগুলো কামারের দোকান। বুধবার (১৩ মে) রামচন্দ্রপুর বাজারে ওমর কর্মকার(৮০) বলেন, দা বটিঁ ও চাপাতি ৫শ' টাকা থেকে ১২শ'টাকায় বিক্রি হয়। হোমনা উপজেলা ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ও নবীনগর উপজেলা থেকেও আমাদের এখানে অর্ডার দিতে আসে মানুষ। কিন্ত দিন দিন কামার শিল্প থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, দা-বটি, চাকু, কুরাল, চাপাতি কিনতে এখন মানুষ কোক্রারিজের দোকানের সরনাপন্ন হয়। কেননা সেখানে স্টিল ও অন্যান্য ধাতব পদার্থে এসব পণ্য সুলভে পাওয়া যায়। ফলে দীর্ঘ দিন যাবত কামার শিল্পের উপর নির্ভরশীল মানুষগুলো জিবিকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তবে ঈদে পশু কোরবানিতে এসব পণ্যের চাহিদা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা দুইশতাদিক পরিবার কামারশিল্পের সঙ্গে জড়িত। ৮০ বছর ধরে এই শিল্পীরা তাঁদের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। এখন আর ভালো মুনাফা না থাকায় দিন দিন এই শিল্পকর্ম ছেড়ে অন্য কাজে জড়িয়ে পড়ছেন তারা। মঙ্গলবার রামচন্দ্রপুর বাজারে কর্মকারপট্টি ঘুরে দেখা গেছে, কামারশিল্পীরা দা,কাঁচি,কুড়াল, ছ্যানা, চাপাতি, বটিঁসহ বিভিন্ন লোহার পন্যসামগ্রী তৈরি করে পসরা সাজিয়ে বসে আছেন। ক্রেতার সংখ্যা কম থাকায় তাঁরা হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
রামচন্দ্রপুর বাজারে ঢুকতেই চোখে পড়ে কামার পট্টি কামারশালা। হাপড় দিয়ে কয়লা আগুনে উসকে দিয়ে খুব সুন্দরভাবে দা ও বটিঁ বানানোর কাজ করছিলেন (৭৫) বছর বসয়ী নিতাই কর্মকার, উজ্জ্বল কর্মকার(৩৬) ও মোঃ আরিফ (২২) কাজ করতে করতে তিনি বলেন, আকার ও আকৃতিভেদে একটা চাপাতি তৈরি করতে ২হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকি। দা,বটিঁ,ছুরি, চাকু তৈরির ২০০ টাকা থেকে ১২ শ'টাকা নিই।
এমএম/