দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মোট ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (১০ মে) সুনামগঞ্জ শহরের পূর্ব তেঘরিয়ার বাসিন্দা মো. মোছাদ্দেক আলী সরকারি ডাকযোগে দুদকের সিলেট জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালকের বরাবরে এ অভিযোগ পাঠান। একইসঙ্গে অভিযোগের কপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মো. মামুন হাওলাদার, নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. ইমদাদুল হকসহ পাউবোর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং সময়মতো কাজ শেষ না করার অভিযোগ আনা হয়। একইসঙ্গে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুকসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তার নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি।
দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের নামে অপ্রয়োজনীয় ও অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও প্রকল্পের প্রয়োজন না থাকলেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আবার অনেক স্থানে কাজ না করেই বা আংশিক কাজ দেখিয়ে পিআইসির মাধ্যমে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়, প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময় ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। অনেক প্রকল্পে ৩০ শতাংশ কাজও সম্পন্ন হয়নি। ফলে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির চাপ সামাল দিতে না পেরে বাঁধ ভেঙে ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও বালু ও কাঁদাযুক্ত মাটি ব্যবহার করে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। পুরোনো বাঁধের মাটি পুনরায় ব্যবহার করেও কাজ শেষ দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বছর সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০২ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জেলার অন্তত ১১০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি। এছাড়া হাওরের কান্দা ও ফসলি জমির ওপরের মাটি কেটে নেওয়ায় আবাদি জমির উর্বরতা কমছে এবং গোচারণভূমিও হুমকির মুখে পড়ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক ও পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মো. মামুন হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
তবে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগের একটি কপি তাদের নজরে এসেছে। অভিযোগে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প বা কাজের তথ্য নেই।’
তিনি দাবি করেন, অফিসের প্রায় সবার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে এবং হয়রানির উদ্দেশ্যেই এটি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাঁধের কাজের সঙ্গে কৃষি বিভাগের সরাসরি সম্পৃক্ততা কম থাকলেও অনেক কৃষি কর্মকর্তার নাম অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে সুনামগঞ্জের স্মরণকালের হাওরডুবির ঘটনায় দুদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলাগুলো এখনও বিচারাধীন রয়েছে।
কেএম