দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ঐতিহ্যবাহী কাইতলা পশুর হাট নিয়ে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারের কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব হারানোর শঙ্কা করছে ব্যবসায়ি ও স্থানীয়রা। এ নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও কোন সুরাহা পাওয়া যায়নি। এমনকি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় অর্ধশত বছরের কাইতলা হাটটিতে গরু, ছাগল, মিহিষ বিক্রির জন্য বিখ্যাত। এ কারণে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পায় সরকার। চলতি বছরও সরকার ৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকার উপরে রাজস্ব পেয়েছে। এ দিকে হাটটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে পার্শ্ববর্তী সখীপুর উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের লোকজন।
শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে দেওদিঘী হাট নিয়েছেন। সেখানে প্রতিনিয়ত বাঁশ বিক্রি হলেও তিনি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক পশুর হাট বসিয়েছেন। কাইতলা পশুর হাট বন্ধ করতে জোরপূর্বক শনিবার দেওদিঘীতে পশুর হাট বসানো হচ্ছে। এতে কোরবানীর ঈদের আগে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যেকোন সময় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, ২১ এপ্রিল দেওদিঘী হাটের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কাইতলা হাটের ইজারাদার মাসুদুর রহমান। লিখিত অভিযোগে তিনি বলেছেন, দেওদিঘী হাটের কারণে কাইতলা হাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও কাইতলা হাটে যাওয়া বিভিন্ন পাইকার ও খামারির গরু জোরপূর্বক দেওদিঘী হাটে নামানোর অভিযোগ রয়েছে। এরপর ২৬ এপ্রিল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী কমিশনার মো. রাফিউল ইসলাম দেওদিঘীর হাটটি শনিবারের পরিবর্তে সোমবার বসানোর জন্য সখীপুরের নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।
গরুর ব্যবসায়ি আব্দুল লতিফ ও আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কয়েক দশক যাবত কাইতলা হাটে গরু বিক্রি করে আসছি। এবার দেওদিঘী হাটে গরু বিক্রি করতে আমাদের বাধ্য করা হচ্ছে। এতে আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি, ওই হাটে গরু বিক্রি করে তেমন লাভ করতে পারছি না।’
কাইতলা হাটের ইজারাদার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘একই দিনে কাছাকাছি আরেকটি হাট বসালে দুই হাটের সুনাম নষ্ট হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এছাড়াও কয়েক কোটি টাকা দিয়ে আমি ইজারা নেয়ায় আমার মতো হাটটিরও ক্ষতি হতে পারে। তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।’
অন্যদিকে দেওদিঘী হাটের ইজারাদার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাটে বাঁশের পাশাপাশি পশু বিক্রি করা হচ্ছে। কারো বা কোন হাটের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এখানে পশু বিক্রি করা হয় না।’
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রনী বলেন, ‘জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের চিঠি পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কেএম/জে আই