দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের কারণে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে কাঁচা-পাকা বোরো ধান নিয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
গত কয়েকদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বজ্রপাতে গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) একদিনেই খালিয়াজুরী উপজেলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে হাওরে নামতে ভয় পাচ্ছেন কৃষকসহ সাধারণ মানুষ। শ্রমিক ও ধান কাটার মেশিন সংকটেও পড়েছেন কৃষকরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে পানিতে নেমে ধান কাটছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের উগারিয়া হাওরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা পানি ভেঙে ধান কাটছেন।
স্থানীয় বেজগাতী গ্রামের কৃষক শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘কয়েক একর জমিতে বোরো আবাদ করেছি। কিন্তু জমিতে পানি উঠে ধান তলিয়ে যাচ্ছে। মেশিন পাচ্ছি না, শ্রমিকও পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে নিজেরাই পানিতে নেমে ধান কেটে নৌকায় তুলছি।’
একই গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান বলেন, ‘এমন দুর্যোগের বছর আগে দেখিনি। সময়মতো ধান তুলতে পারছি না। আবার ধানের দামও কম। এবার খরচ তোলাও কঠিন হয়ে যাবে।’
এদিকে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন জানান, ভারী বৃষ্টিপাতে কংস, সোমেশ্বরীসহ বিভিন্ন নদীর পানি বাড়ছে। ইতোমধ্যে বন্যার আশঙ্কায় আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনায় ৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম জানান, জেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলে ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত মোট বোরোর ১৯ শতাংশ এবং হাওরাঞ্চলের ৬২ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। তবে হাওরের ১ হাজার ৬১৬ হেক্টর জমির ধান এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে।
এমএস/