দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫) হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে র্যাব-১১। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র, একটি সিএনজি ও ভিকটিমের লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানার ধর্মপুর এলাকার মৃত নুর ইসলামের ছেলে মো. সোহাগ (৩৪), মৃত হারুন মিয়ার ছেলে ইসমাইল হোসেন জনি (২৮), আমড়াতলী এলাকার আমির হোসেনের ছেলে এমরান হোসেন ওরফে হৃদয় (৩৪), আড়াইওড়া এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে রাহাত হোসেন জুয়েল (২৭) এবং ধর্মপুর এলাকার মৃত সজল মিয়ার ছেলে মো. সুজন (৩২)।
র্যাব জানায়, গত ২৫ এপ্রিল সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার আইরিশ হোটেলের পাশে বুলেট বৈরাগীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি থেকে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষ করে রাতে কুমিল্লায় নিজ বাসায় ফিরছিলেন। রাত ৩টার দিকে জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকায় বাস থেকে নামার পর তিনি নিখোঁজ হন এবং সকালে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতাররা একটি পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ঘটনার রাতে তারা সিএনজি নিয়ে জাগুরঝুলি এলাকায় অবস্থান নেয়। ভিকটিম বাস থেকে নামলে চালক জুয়েল তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গাড়িতে তোলে। এরপর সিএনজিতে আগে থেকেই থাকা সোহাগ ও হৃদয় পেছনের আসনে এবং জনি সামনে বসে।
চলন্ত সিএনজিতে কিছুদূর যাওয়ার পর সোহাগ ও হৃদয় চাপাতি দিয়ে বুলেট বৈরাগীর ওপর হামলা চালায়। ধস্তাধস্তির সময় জনি সুইচ গিয়ার দিয়ে তাকে আঘাত করে এবং মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে কোটবাড়ি বিশ্বরোড অতিক্রমের সময় তাকে চলন্ত গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। এতে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
র্যাব আরও জানায়, অভিযানে আসামিদের কাছ থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, পাওয়ার ব্যাংক, পোশাক ও ব্যাগসহ বিভিন্ন আলামত এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজি, চাপাতি, সুইচ গিয়ার, স্ক্রু ড্রাইভার, ফোরজিং হ্যামার ও প্লায়ার্স উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
এমএস/