দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝালকাঠিতে প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড এর ভাসমান বার্জ ডিপোর কার্যক্রম। এতে দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটার পাশাপাশি ডিপোতে অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে প্রায় ৭৫ হাজার লিটার ডিজেল, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
সুগন্ধা নদীতে নোঙর করা এই ভাসমান ডিপো একসময় ঝালকাঠি, বরিশাল, ভোলা, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। তখন প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার লাখ লিটার ডিজেল ডিলারদের মাধ্যমে নৌপথে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হতো।
ডিপো সূত্রে জানা যায়, বার্জটির একটি ট্যাংকের তলায় ছিদ্র ধরা পড়ায় সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয় এবং মেরামতের জন্য বার্জটি চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। সংস্কার শেষে গত বছরের ডিসেম্বরে এটি আবার ঝালকাঠিতে ফিরে আসে। তবে এখনো পুরনো ট্যাংকে থাকা তেল নতুনভাবে স্থানান্তর করা হয়নি।
বর্তমানে ডিপোর ছয়টি ট্যাংকে প্রায় ৭৫ হাজার লিটার ডিজেল পড়ে আছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, দীর্ঘদিন সংরক্ষণের কারণে তেলে ময়লা জমে যাওয়ায় তা সরাসরি ব্যবহারযোগ্য নয়। নতুন তেলের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় ডিলার ও ব্যবসায়ীরা জানান, ডিপো বন্ধ থাকায় তাদের বাইরের উৎস থেকে বেশি দামে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের ওপর। অনেকের মতে, সংরক্ষিত তেলের মান পরীক্ষা করে ব্যবহারযোগ্য হলে তা বাজারে ছাড়লে সাময়িকভাবে সংকট কমতে পারে।
ডিপোর সিনিয়র কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার বলেন, ট্যাংকে ছিদ্র থাকায় ঝুঁকি নিয়ে তেল সরবরাহ সম্ভব ছিল না। মেরামত কাজ শেষ হয়েছে। খুব শিগগিরই কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে।
ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ডিপোটি ইতোমধ্যে ঘাটে ফিরে এসেছে এবং আগামী মাস থেকে কার্যক্রম চালু হতে পারে। এতে জেলার জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ কেন্দ্র অচল থাকায় শুধু স্থানীয় নয়, পুরো দক্ষিণাঞ্চলের জ্বালানি ব্যবস্থায় প্রভাব পড়েছে। তাই দ্রুত ডিপো চালু করা এবং সংরক্ষিত তেলের গুণগত মান পরীক্ষা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
জে আই