দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় সাপের কামড়ে এক যুবকের মৃত্যুর পর তাকে দাফন না করে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে জীবিত করার চেষ্টার ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিহত এইচএম সায়েম (২৭) উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় কাভার্ড ভ্যানচালক ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে চাঁদপাশা ও রহমতপুর ইউনিয়নের সংযোগস্থলের ভাঙা বুনিয়া খাল এলাকায় তাকে সাপে কামড় দেয়। কোনোভাবে বাড়িতে পৌঁছানোর পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
পরে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তাকে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করেন। পরপর দুইবার অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পরও তার জ্ঞান ফেরেনি। পরদিন শুক্রবার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
তবে পরিবারের সদস্যরা তাকে দাফন না করে বাড়ির উঠানে রেখে বিভিন্ন স্থান থেকে সাপুড়ে ও ওঝা এনে ঝাড়ফুঁক শুরু করেন। তাদের বিশ্বাস, অলৌকিকভাবে সায়েমকে পুনরায় জীবিত করা সম্ভব হতে পারে।
এ ঘটনায় এলাকায় কৌতূহল ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় লোকজন ভিড় করছেন নিহতের বাড়িতে।
নিহতের স্বজন জুয়েল হোসেন বলেন, চিকিৎসকরা সায়েমকে মৃত ঘোষণা করলেও তারা এখনো আশা ছাড়েননি। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় অলৌকিক কিছু ঘটতে পারে এই বিশ্বাস থেকেই তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুর এ এলাহী বলেন, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগই একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা। নির্ধারিত চিকিৎসা গ্রহণের পরও রোগীকে বাঁচানো না গেলে অন্য কোনো পদ্ধতিতে তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জে আই