দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায় অবৈধভাবে গাছ কাটার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। প্রায় ২২ হাজার একর বনভূমি নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলের সংরক্ষিত শাল-গজারি বাগান এখন কাঠ চোরদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই প্রায় প্রতিরাতেই সংঘবদ্ধ চক্র বনভূমিতে হানা দিয়ে গাছ কেটে পাচার করছে। অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক বনায়নের কিছু উপকারভোগী সদস্যও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমূল ইউনিয়নের বালিজুরি রেঞ্জের সদর বিট এলাকায় অভিযান চালিয়ে বন বিভাগ দুইজনকে আটক করে। আটকরা হলেন হালুয়াহাটির জজ মিয়া (৫০) এবং বালিজুরির জুমুর আলী (৪০)। তারা কাঠ পাচারের সময় হাতে-নাতে ধরা পড়েন।
বন বিভাগের তথ্যমতে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সৃজিত উডলট বাগান থেকে আকাশমনি গাছ কাটার খবর পেয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা সুমন মিয়ার নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১০ ঘনফুট আকাশমনি কাঠ, চারটি গাছের মোথা, একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান, দুটি হাত করাত ও একটি দা জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যায়।
এর আগের দিন শনিবার রাংটিয়া রেঞ্জের গজনি বিট এলাকাতেও অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ কাটা গাছ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামাজিক বনায়নের বাগানের এক উপকারভোগী ফয়েজ উদ্দিন গোপনে বাগান বিক্রি করে দিয়ে নিয়মিত গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত। যদিও অভিযানের খবর পেয়ে তিনি ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যান।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে বন উজাড়ের প্রবণতা আরও বেড়েছে। চোরাকারবারিরা এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষেও তাদের দমন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার হলেও অজ্ঞাত কারণে তারা দ্রুত ছাড়া পেয়ে যায়।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, গারো পাহাড় দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সম্পদ। এটি রক্ষা করতে না পারলে জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। সেভ দ্যা ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড ন্যাচারের স্থানীয় নেতা জিহাদ মিয়া বলেন, “বন খেকোদের হাত থেকে গারো পাহাড়কে বাঁচাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
বন বিভাগ জানিয়েছে, কাঠ চোরদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে। আটক দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পলাতকদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বনজ সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জে আই