দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় রহিমা বেওয়া (৬৬) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কুড়ারপাড় এলাকায় তার বাড়ির উঠান থেকে ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়দের ধারণা, বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় তাকে ঘর থেকে ডেকে বের করে এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, নিহত রহিমা বেওয়ার চার মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রায় এক যুগ আগে তার স্বামী ফয়েজ উদ্দিন মারা যান। তার তিন মেয়ে ও ছেলে দিল্লিতে বসবাস করেন এবং সেখান থেকে প্রতি মাসে কিছু অর্থ পাঠিয়ে মায়ের সংসার চালাতেন। একই ইউনিয়নের নাখারগঞ্জ বাজার এলাকায় তার আরেক মেয়ে থাকেন। ৩২ শতক ভিটেমাটি ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ ছিল না রহিমার। তিনি একাই বসবাস করতেন এবং এলাকায় সৎ ও নিরীহ মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
প্রতিবেশী অবিজন বেওয়া জানান, প্রতিদিন সকালে তাদের দেখা হতো। শুক্রবার সকালে রহিমাকে না দেখে তিনি তার বাড়িতে যান। বাড়ির গেট খোলা দেখে ভেতরে ঢুকে দরজার সামনে রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করেন। পরে স্থানীয়রা জড়ো হন।
নিহতের মেয়ে ফুলমালা বলেন, আমার মায়ের কোনো শত্রু ছিল না। কে এই কাজ করেছে আমরা জানি না। এক বছর আগে কিছু লোক সুপারি চুরি করতে এসে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করেছিল, এ ছাড়া আর কোনো বিরোধ ছিল না।
রামখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি জানান, এলাকায় কিছু মাদকসেবীর আনাগোনা রয়েছে এবং অতীতে সুপারি চুরিকে কেন্দ্র করে একটি ঘটনার কথা শোনা গেছে।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহিল জামান বলেন, বৃদ্ধার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। তবে হত্যার কারণ ও জড়িতদের সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
জে আই