দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শেরপুরের শ্রীবরদীতে ট্রাঙ্ক থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে মরদেহ বহনকারী পিকআপ ভ্যান ও তার চালককে আটক করা হয়েছে।
নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার (৩৬)। তিনি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং মো. আলাল মিয়ার মেয়ে বলে জানা গেছে।
পিবিআই জামালপুর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল সকালে শ্রীবরদী উপজেলার নয়াপাড়া ঢালিবাড়ী তিন রাস্তার মোড়ে একটি পরিত্যক্ত ট্রাঙ্ক পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। সন্দেহ হলে তারা পুলিশে খবর দেয়। পরে শ্রীবরদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাঙ্কটি খুলে তোশক মোড়ানো, হাত-পা বাঁধা এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
পরবর্তী সময়ে মরদেহের পরিচয় শনাক্তে পিবিআই জামালপুরের সহায়তা নেওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে গত ২ এপ্রিল নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে পিবিআইয়ের একটি দল।
এ ঘটনায় সেদিনই নিহতের ভাই মো. শফিকুল ইসলাম শফিক মিয়া বাদী হয়ে শ্রীবরদী থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় পিবিআইয়ের এসআই সামিউল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৩ এপ্রিল সকালে শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া গ্রাম থেকে মরদেহ বহনকারী পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করে। এ সময় পিকআপের চালক আশরাফ আলীকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ওই পিকআপভ্যান থেকেই ট্রাঙ্কটি নামিয়ে রাখা হয়েছিল।
পিবিআই সূত্র জানায়, ঘটনার দিন সকালে ঢাকা থেকে দুই নারী শ্রীবরদীর উদ্দেশে একটি পিকআপভ্যান ভাড়া করেন। পরবর্তী সময়ে গাজীপুরের মাওনা এলাকায় ভাড়া পরিশোধের পর এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ট্রাঙ্কসহ ওই পিকআপে ওঠেন। পরে শ্রীবরদীর নয়াপাড়া এলাকায় এসে ট্রাঙ্কটি নামিয়ে রেখে তিনি পালিয়ে যান।
শেরপুর-জামালপুর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, আটক চালক ভাড়ার বিনিময়ে ট্রাঙ্কসহ ওই ব্যক্তিকে বহন করেছিলেন বলে দাবি করেছেন। ট্রাঙ্কসহ গাড়িতে ওঠা ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সামিউল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
/অ