দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মেহেরপুরে আকস্মিক কালবৈশাখি ঝড় ও বজ্রবৃষ্টিতে গম, ভুট্টা ও কলাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভালো ফলনের আশা থাকলেও সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ৯টার দিকে হঠাৎ ঝড় ও বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকার পাকা গমের ক্ষেত মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এতে ফসল সংগ্রহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় ক্ষতির আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলের সংকট ও হারভেস্টার মেশিনের অভাবে সময়মতো গম কাটতে পারেননি তারা। ফলে ঝড়ের আগেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হয়নি। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে গম কাটার খরচও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৩ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঢেপা-পাঙ্গাসী পাড়া গ্রামের কৃষক শাহাদত হোসেন বলেন, সময়মতো হারভেস্টার না পাওয়ায় তার পাকা গম কাটতে পারেননি। ঝড়ে গম মাটিতে পড়ে যাওয়ায় এখন অতিরিক্ত খরচে তা সংগ্রহ করতে হবে।
একইভাবে সাহারবাটী গ্রামের কৃষক জহিরুল ইসলাম জানান, এক বিঘা জমির সব গম ঝড়ে নষ্ট হওয়ার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে ভাটপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আলীম বলেন, ঝড়ে তার প্রায় অর্ধেক ভুট্টা গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, ফলে ফলন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জুগিন্দা গ্রামের কৃষক হৃদয় ইসলাম জানান, তার ভুট্টা ক্ষেতে মোচা আসার সময় ঝড়ে গাছ নুয়ে পড়েছে। এতে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া কঠিন হবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
এদিকে কলা চাষিরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক গাছ বাঁকা হয়ে গেছে, কিছু গাছ ভেঙেও পড়েছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন চাষিরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সঞ্জীব মৃধা বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা হয়নি। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফসল আংশিক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।
জে আই