দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হঠাৎ করেই বেড়েছে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, যা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন রোগীদের স্বজনরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে নিয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ গঠন করা হয়েছে একাধিক মেডিকেল টিম এবং চালু করা হয়েছে আলাদা চিকিৎসা কর্নার।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে এখন পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে ১০৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে এবং এর সঙ্গে বাড়তে থাকে মৃত্যুও।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ২৪ মার্চ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিনটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করে। পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ডে তিনটি আলাদা কক্ষ নির্ধারণ করে সেখানে “হাম/মিজেলস কর্নার” চালু করা হয়। প্রতিটি কক্ষে ১০টি শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে এসব কর্নারে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত শিশু বিভাগের তিনটি ওয়ার্ডে ৩৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ঠান্ডা-সর্দি ও জ্বরের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর কয়েকদিনের মধ্যে শরীরে হাম দেখা দিচ্ছে। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কামরুল ইসলাম জানান, তার এক বছর বয়সী ছেলে কাজল এক সপ্তাহ ধরে জ্বর ও সর্দিতে ভুগছিল। পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
অন্যদিকে গৌরীপুরের শাহানাজ বেগম জানান, তার সাড়ে ৮ মাস বয়সী ছেলে মুসাকে সব টিকা দেওয়ার পরও হাম আক্রান্ত হওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি বা সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রোগটির জটিলতায় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. বিজন কুমার জানান, ভর্তি হওয়া অনেক শিশুর মধ্যেই নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা যাচ্ছে।
শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, টিকা নেওয়া ও না নেওয়া উভয় ধরনের শিশুই আক্রান্ত হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আইসিইউতে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আলাদা কর্নার চালু করা হয়েছে।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মার্চ থেকে হাম আক্রান্ত রোগীদের তথ্য পৃথকভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪ মাস বয়সী এক শিশু ১৮ মার্চ মারা যায়। এছাড়া ২৬ মার্চ পৃথক ঘটনায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়।
শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আক্তারুজ্জামান জানান, সংক্রমণ ঠেকাতে সাধারণ রোগীদের থেকে হাম আক্রান্তদের আলাদা রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, টিকাদানে ঘাটতি থাকার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। আমরা আলাদা কর্নার চালু করেছি যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়। প্রয়োজনে আইসোলেশন সুবিধা আরও বাড়ানো হবে।
উল্লেখ, এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালে ময়মনসিংহ ছাড়াও আশপাশের একাধিক জেলা থেকে রোগীরা এসে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।
জে আই