দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

একুশে পদকপ্রাপ্ত কিংবদন্তি বাউলশিল্পী শাহ আবদুল করিমের ১১০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী উৎসব। শুক্রবার বিকেল ৫টায় তার জন্মভূমির মাঠে উৎসবের উদ্বোধন করবেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক।
প্রতিবছরের মতো এবারও কালনী নদীর তীরবর্তী উজানধল গ্রামে আয়োজন করা হয়েছে এই উৎসব, যা বাউলপ্রেমী ও সংগীতানুরাগীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। আয়োজকরা জানান, বাউলসম্রাটের জীবনদর্শন, মানবতাবাদী চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই আয়োজন।
উৎসব উপলক্ষে গ্রামজুড়ে ইতোমধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে ভক্ত-অনুরাগীরা ছুটে আসছেন শাহ আবদুল করিমের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানে। দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিশিষ্টজনরা তার জীবন, দর্শন ও সংগীতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন। সন্ধ্যা থেকে শুরু হবে তার জনপ্রিয় গানের পরিবেশনা।
উৎসবে শিষ্য ও অনুরাগীদের পরিবেশনার পাশাপাশি দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরাও অংশ নেবেন। এতে লোকসংগীতপ্রেমীদের জন্য তৈরি হচ্ছে এক ব্যতিক্রমধর্মী সুরের আসর।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘শাহ আবদুল করিমের গান মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তার সৃষ্টিগুলো আমাদের মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। নতুন প্রজন্ম যেন তাকে জানতে ও বুঝতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই আয়োজন।’
উল্লেখ্য, ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শাহ আবদুল করিম। দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে তিনি পাঁচ শতাধিক গান রচনা করেন। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন, তবে তার গান ও দর্শন আজও লোকসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বেঁচে আছে।
এমএস/