দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র স্নানোৎসব উপলক্ষে কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে লাখো পূণ্যার্থীর সমাগম হয়েছে। ভোরের আলো ফুটতেই জেলার বিভিন্ন ঘাটে শুরু হয় পূণ্যস্নান, আর দিনভর চলে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।
বৃহস্পতিবার ভোর থেকে নাগেশ্বরীর নুনখাওয়া ঘাট, কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ঘাট এবং চিলমারী উপজেলার জোড়গাছ ও রমনা ঘাটে কয়েক লাখ ভক্ত ব্রহ্মপুত্রের স্রোতে পবিত্র স্নান করেন। স্নানের আগে অনেক ভক্তকে ‘ওঁ ব্রহ্মপুত্র মহাভাগ…’ মন্ত্রোচ্চারণ করে পাপমোচনের প্রার্থনা করতে দেখা যায়।
আয়োজক কমিটি জানায়, প্রতি বছর বাংলা চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এই স্নান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়, যা ‘অষ্টমীর স্নান’ নামে পরিচিত। এ বছর সনাতনী পঞ্জিকা অনুযায়ী পবিত্র স্নানের নির্ধারিত সময় ছিল ভোর ৪টা থেকে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট এবং দুপুর ১২টা ৩ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
উৎসবকে কেন্দ্র করে ঘাটগুলোতে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। স্থানীয় প্রশাসন ও আয়োজকদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন, শৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
স্নানে অংশ নিতে আসা সুজন মোহন্ত বলেন, ‘ঋষি পরশুরাম মাতৃহত্যার পাপ মোচনের জন্য এই দিনে ব্রহ্মপুত্রে স্নান করেছিলেন—এই বিশ্বাস থেকেই আমরা প্রতিবছর এই তিথিতে স্নান করি।’
রংপুর থেকে আগত পূণ্যার্থী আদিত্য চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিবছর পরিবারসহ এখানে আসি। আমাদের বিশ্বাস, এই পবিত্র তিথিতে স্নান করলে মনের পাপ দূর হয়।’
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘এই স্নানোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’
এমএস/