দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানিকগঞ্জ শহরে একটি বিউটি পার্লারের আড়ালে সংঘবদ্ধভাবে দেহব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে মা–ছেলেসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে নারীদের জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করতে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক নারী মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ শহরের পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকায় এলজিইডি অফিসের পশ্চিম পাশে অবস্থিত “রাইসা বিউটি ঘর” নামের একটি বিউটি পার্লারের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পার্লারটির মালিক রত্না ইয়াছমিন তার সহযোগিদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলে দেহব্যবসা পরিচালনা করছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী।
মামলার বাদী জানান, তিনি ওই পার্লারে চাকরি করতেন। চাকরির সুযোগে পার্লারের মালিক রত্না ইয়াছমিন ও তার সহযোগিরা তাকে দেহব্যবসায় বাধ্য করার চেষ্টা করেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন পার্লারের মালিক রত্না ইয়াছমিন, তার ছেলে মো. তুষার রহমান (২৬), দেড়গ্রাম এলাকার তাজনীন আক্তার চাঁদনী (২৩), পশ্চিম সেওতা এলাকার রিফাত (২৫) ও রজ্জব (২৫), বাইচাইল গ্রামের জহিরুল ইসলাম টিপু (৪৫)-সহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ মার্চ তার ১৩ বছর বয়সী ছোট বোন বেড়াতে এলে অভিযুক্তরা তাকেও দেহব্যবসায় যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় গত ১৪ মার্চ রাত আনুমানিক ১টার দিকে কয়েকজন আসামি তার উত্তর সেওতা এলাকার বাসায় গিয়ে চাপ প্রয়োগ করে।
তিনি আরও জানান, অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করে জোরপূর্বক পশ্চিম বান্দুটিয়ার ওই পার্লারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয় এবং হাত বেঁধে শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে পার্লারে ব্যবহৃত ধারালো কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং মুখে কালি মেখে অপমান করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাইরে থেকে এটি একটি সাধারণ বিউটি পার্লার হলেও ভেতরে ভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড চলত বলে এলাকায় আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল।
এদিকে ভুক্তভোগীর স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ রত্না ইয়াছমিন, তুষার রহমান ও তাজনীন আক্তার চাঁদনীকে আটক করে। তবে অন্য অভিযুক্তরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী নারীকে চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম হোসেন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তার পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
আরএ