দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ (সামেক) হাসপাতালে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগে বড় ধরনের অনিয়ম এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ৫৪ জন কর্মীর নিয়োগ একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিতে হাসপাতালের এক হিসাবরক্ষকের মাধ্যমে প্রায় ৫৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।
সমাজকর্মী ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলনের যুবনেতা আব্দুস সামাজ জানান, সামেক হাসপাতালে জনবল নিয়োগের প্রথম দফায় গত বছরের ১ নভেম্বর দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় আরব সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড, মাছরাঙা সিকিউরিটি সার্ভিস, পিমা অ্যাসোসিয়েট ও টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড। তবে নথিপত্রে ত্রুটি এবং অনিয়মের অভিযোগে টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনালের আবেদন বাতিল করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়।
চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। শেষ দিনে ১৯ ফেব্রুয়ারি আগের চারটি প্রতিষ্ঠানই অংশ নেয় এবং একই রেট (দর) দাখিল করে। নিয়ম অনুযায়ী, একাধিক প্রতিষ্ঠানের দর একই হলে লটারির মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করা উচিত ছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, লটারির কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আরব সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রথম দফায় যে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন অভিযোগে বাতিল হয়েছিল, তাকেই পুনরায় কাজ পাইয়ে দিতে ৫৪ জন প্রার্থীর বিপরীতে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে মোট ৫৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. মোস্তাজুল ইসলামের পরিবার খুলনার টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনালের মালিকের বাড়িতে ভাড়া থাকে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে এই অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে মো. মোস্তাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ফোন করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ কুদরত-ই-খুদারও ফোন ধরেননি।
সাতক্ষীরার সচেতন মহল মনে করছে, আউটসোর্সিং নিয়োগে এ ধরনের অস্বচ্ছতা হাসপাতালের সেবার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। টিআইবি’র সহায়তায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ পবিত্র মোহন দাস বলেন, মেডিকেল কলেজের সভাপতি পদাধিকার বলে স্থানীয় সংসদ সদস্য যদি স্বচ্ছতার সঙ্গে হাসপাতালকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনেন, তবে এ ধরনের দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব।
সচেতন নাগরিক কমিটির সাতক্ষীরা জেলার সভাপতি ফুটবল রেফারি তৈয়ব হাসান বাবু বলেন, এ ধরনের ঘটনা অনেক আগে থেকে শোনা যায়। তবে কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ করেনি এবং নাগরিক সচেতনতার কার্যক্রমও নেওয়া হয়নি।
জে আই