দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলায় গলাকাটা ও মাথাবিহীন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া যুবকের মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মো. মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি সরাসরি এখনো কারও নাম-পরিচয় প্রকাশ না করলেও নিহতের পরিবার সূত্রে লাশ এবং হত্যাকারিদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের নাম গোপাল চন্দ্র দাস (৪৫)। তিনি বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের গনপাড়া গ্রামের পরিমল চন্দ্র দাসের ছেলে। সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের একজনের নাম মো. সম্রাট এবং অপর ব্যক্তির নাম মো. রাজু। এর মধ্যে মো. সম্রাটকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে নেছারাবাদ উপজেলার পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামের মামুন মিয়ার ইটভাটার দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে নদীর তীর থেকে গলাকাটা ও মাথাবিহীন এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি পিরোজপুর জেলা মর্গে পাঠানো হবে।
পুলিশ সুপার বলেন, লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পিবিআই, সিআইডি ও র্যাব কাজ করছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের আশপাশের কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে সন্দেহভাজন দুজনকে শনাক্ত করা গেছে এবং গত রাতে সম্রাট নামে একজনকে গত রাত ৩টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; অন্যজনকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে একটি সাদা রঙের আরটিআর মোটরসাইকেলযোগে তিন যুবক মামুন মিয়ার ইটভাটার ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ৩টা ২৭ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেলে থাকা দুই যুবক দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর ভাটার এক কর্মচারী নদীর পাড়ে গিয়ে মস্তকবিহীন লাশটি দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসে এবং পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
নির্ভরযোগ্য পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের একজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে এ রিপোর্ট লেখা পূর্ব পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে জানানো হয়নি।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অজ্ঞাত কোন স্থান থেকে ওই যুবককে অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে এসে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে মস্তক বিহীন মরদেহ সেখানে ফেলে রাখা হয়।
উল্লেখ্য, শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে নিহতর বাবা পরিমল চন্দ্র দাস ও তার ছেলে এবং তার দুই ভাই এসে লাশ সনাক্ত করেছেন।
এবি/