দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাগেরহাটের রামপালে দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি ছিল বরযাত্রীবাহী। নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে বিয়ে করে নববধূকে নিয়ে খুলনার কয়রা থেকে মোংলার উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসে থাকা কয়েকজন যাত্রী নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
রামপাল থানার ওসি (তদন্ত) সুব্রত মণ্ডল জানান, নিহতদের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ৪ জনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মেহনাজ মোশাররফ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুসহ ৯ জনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাফর আহমেদ জানান, নৌবাহিনীর বাসটি মোংলা থেকে খুলনার দিকে যাচ্ছিল। গুনাই ব্রিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই তিন নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও কয়েকজনের মৃত্যু ঘটে।
তিনি আরও জানান, নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী এবং তারা একই পরিবারের সদস্য। তারা মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসের চালকও নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি রামপাল উপজেলায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে সড়ক পিচ্ছিল হওয়া ও অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।
এবি/