দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পরিকল্পিত পার্কিং ব্যবস্থার অভাবে ঈদকে সামনে রেখে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায়। নগরীর বিভিন্ন বাণিজ্যিক ভবনে পার্কিং সুবিধা না থাকায় কিংবা থাকলেও তা বন্ধ রাখায় সরু সড়কে যানজট বেড়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
৫৮ বর্গমাইল আয়তনের বরিশাল নগরীতে প্রতিদিনই বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের সংখ্যা। কিন্তু সে তুলনায় বাড়েনি সড়কের ধারণক্ষমতা কিংবা পরিকল্পিত পার্কিং ব্যবস্থা। ফলে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাণিজ্যিক এলাকায় প্রায়ই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ঈদ মৌসুম এলেই এই পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
নগরীর সদর রোড, গির্জা মহল্লা, ফজলুল হক অ্যাভিনিউ ও কাটপট্টি এলাকায় বহুতল ভবনে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন শপিংমল ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান। তবে অধিকাংশ ভবনে নেই গাড়ি রাখার নির্দিষ্ট গ্যারেজ বা পার্কিং সুবিধা। কোথাও কোথাও পার্কিং থাকলেও তা বছরের পর বছর বন্ধ রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফলে মার্কেটে আসা মানুষ বাধ্য হয়ে সড়কের ওপরই মোটরসাইকেল ও গাড়ি পার্কিং করছেন। এতে একদিকে যেমন যানজট বাড়ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
ঈদের কেনাকাটা করতে সদর রোডে আসা ক্রেতা পারভেজ রাসেল বলেন, বরিশালে পার্কিং সমস্যা সব সময়ই থাকে। সদর রোডে দুই-চারটি মার্কেটের নিচে পার্কিং থাকলেও বেশিরভাগ সময় তা বন্ধ থাকে। অন্য ভবনগুলোতেও কোনো পার্কিং নেই। ফলে বাধ্য হয়ে রাস্তায় মোটরসাইকেল রাখতে হয়।
আরেক ক্রেতা নবিলা বলেন, “স্বামীর সঙ্গে মার্কেটে এসেছি। কিন্তু পার্কিং না থাকায় রাস্তায় গাড়ি রাখতে হয়েছে। মার্কেট কর্তৃপক্ষকে বললে তারা জানায়, ক্রেতাদের গাড়ি পার্কিং করা যাবে না। সিটি করপোরেশন প্ল্যান দেওয়ার সময় এসব বিষয় কেন দেখেনি বুঝি না।”
সাঈদ পান্থ নামে আরেক ক্রেতা বলেন, পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে অবৈধ গাড়ি সদর রোড এলাকায় প্রবেশ করতে পারছে না, এতে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। তবে যে-সব মার্কেটে পার্কিং ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলো খুলে দিলে ক্রেতারা আরও সুবিধা পেতেন।
এদিকে মাঝে মধ্যে ট্র্যাফিক বিভাগের অভিযান চললেও নগরবাসী এখনও তার উল্লেখযোগ্য সুফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে বরিশালে কেনাকাটা বেড়েছে। শুধু নগরী নয়, জেলার ১০ উপজেলার মানুষও কেনাকাটা করতে বরিশালে আসছেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি ভবনের নিচে পার্কিং থাকা বাধ্যতামূলক। কোথাও না থাকলে বা বন্ধ থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য একটি টিম গঠন করে দ্রুত মাঠে নামানো হবে।”
তিনি আরও জানান, গির্জা মহল্লা এলাকায় পুরোনো ভবন বেশি হওয়ায় সেখানে একটি স্কুল মাঠে অস্থায়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বরিশাল শহরের বেশিরভাগ রাস্তা সরু এবং অনেকটা অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। আলাদা পার্কিং ব্যবস্থাও নেই। তবুও আমরা যানজট ও জনভোগান্তি কমাতে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে পুলিশ আরও কঠোর হবে। যে-সব ভবনে পার্কিং থাকার পরও তা ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জে আই