দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নরসিংদীর মাধবদীতে আলোচিত কিশোরী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের বিভিন্ন ‘অসামাজিক কর্মকাণ্ডে’ বিরক্ত হয়ে তাকে হত্যা করেন সৎ বাবা আশরাফ আলী। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে নরসিংদীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ-আল-ফারুক।
পুলিশ সুপার জানান, ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মূল আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮)-এর সঙ্গে নিহত কিশোরীর আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এর ধারাবাহিকতায় তারা শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়েছিল বলে তদন্তে জানা গেছে।
অন্যদিকে আসামি হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার হত্যাকাণ্ডের ১০ থেকে ১২ দিন আগে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের সৎ বাবা আশরাফ আলী আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে বলেন, তিনি তার সৎ মেয়েকে নিয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সুমন নামে এক সহকর্মীর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে পথে একটি সরিষা ক্ষেতের কাছে পৌঁছালে তিনি মেয়ের গলায় পেছন দিক থেকে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে একই ওড়না দিয়ে মেয়ের দুই হাত পেছনে বেঁধে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এরপর তিনি বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের জানান, নূরা ও তার সহযোগীরা মেয়েকে তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
জবানবন্দিতে আশরাফ আলী আরও বলেন, মেয়ের বিভিন্ন ‘অসামাজিক কর্মকাণ্ডে’ তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত ছিলেন এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ায় তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
হত্যার দায় স্বীকার করা আশরাফ আলী শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার মোয়াকুড়া গ্রামের কুব্বাত আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি নরসিংদীর মাধবদীর কোতয়ালীরচর দড়িকান্দি গ্রামে মতির বাড়িতে ভাড়া থেকে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন।
এর আগে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা, এবাদুল্লাহ, হযরত আলী ও গাফফারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে শালিশ দরবার করে নিহতের পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার অভিযোগে আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ান, তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান, প্রতিবেশী মো. আইয়ুব ও ইছাহাক ওরফে ইছাককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত সবাই বর্তমানে ৮ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতয়ালীরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমদিকে সৎ বাবা দাবি করেছিলেন, আগের রাতে বখাটে একটি চক্র তার মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে।
এবি/