দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীর সাগরপাড়ের উপকূলীয় জনপদ কলাপাড়া। চোখ যতদূর যায়, শুধু তরমুজ আর তরমুজ। ইতোমধ্যে আগাম জাতের তরমুজ বাজারে উঠতে শুরু করেছে। চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত রোদ আর রোগবালাই কম থাকায় এ বছর ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি বাজারেও মিলছে প্রত্যাশিত দাম।
কৃষি বিভাগ বলছে, শুধুমাত্র এ উপজেলা থেকেই প্রায় ৪শ’ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে। এমনকি শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তা ছাড়িয়ে যেতে পারে ৫শ’ কোটিও।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, ডিসেম্বরের শুরুতেই উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে তরমুজের আবাদ শুরু করেছে কৃষকরা। উপকূলের চরাঞ্চলের বালুময় মাটি, পর্যাপ্ত রোদ, নদী ও সাগরের কাছাকাছি হওয়ায় আর্দ্র পরিবেশের কারণে এ উপজেলা এখন তরমুজ উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত।
এ বছর শীত দীর্ঘস্থায়ী ছিল না, কুয়াশা ছিল তুলনামূলক কম। ফলে গাছে রোগের প্রকোপ কমেছে, ফলন এসেছে সময়মতো। দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যেই ক্ষেত থেকে ঘরে তুলছেন পাকা ফল। ইতোমধ্যে ফলন কাটা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বাজারজাত করছেন। দামও ভালো পাওয়ায় তরমুজ চাষিরা স্বস্তিতে রয়েছেন।
কৃষকরা জানান, এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। দাম যদি ঠিক থাকে, তাহলে লাভ হবে। গতবার আবহাওয়ার কারণে ক্ষতি হয়েছিল, এবার সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছি।”
রমজান মাসের শুরুতেই বাজারে সরবরাহ বাড়তে থাকে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পটুয়াখালীর তরমুজের চাহিদা আগে থেকেই ছিল। এবার আগাম ফলন সেই চাহিদাকে আরও চাঙ্গা করেছে। পাইকারি বাজারে আকারভেদে প্রতি মণ তরমুজ বিক্রি হচ্ছে সন্তোষজনক দামে, খুচরা বাজারেও দাম রয়েছে চাষিদের অনুকূলে। উৎপাদন খরচ মিটিয়ে ভালো লাভের আশা করছেন অনেকে।
উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের পাঁচজুনিয়া গ্রামের কৃষক খোকন গাজী (৪০)। তিনি এ বছর ওই গ্রামের ৩০ একর জমিতে গ্রেট ওয়ান জাতের আগাম তরমুজ চাষ করেছেন। সঠিক পরিচর্যায় তার ক্ষেতে ইতোমধ্যে এক একটি তরমুজের ওজন হয়েছে ২ থেকে ৩ কেজি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি ক্ষেত থেকে তরমুজ বিক্রি শুরু করবেন। তরমুজ আবাদে তার খরচ হয়েছে মাত্র ২২ লাখ টাকা। তিনি তার ক্ষেত থেকে এবছর ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রির আশা করছেন।
উপকূলের তরমুজ ঘাটগুলো এখন ব্যস্ত বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। চরাঞ্চল থেকে ট্রলারভর্তি তরমুজ এসে ভিড়ছে ঘাটে। সেখান থেকে পাইকাররা কিনে নিচ্ছেন বড় চালানে। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা চলছে বাছাই, তোলা-নামানো আর পরিবহনের কাজ। স্থানীয় শ্রমিকদের জন্যও তৈরি হয়েছে মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর উপজেলায় তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমি। তবে বাস্তবে আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ১২০ হেক্টর বেশি। উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সম্ভাব্য বাণিজ্যের পরিমাণও।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আরাফাত হোসেন বলেন, সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এ বছর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আকস্মিক কোনো দুর্যোগ না ঘটলে এ বছর প্রায় ৪শ’ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে।
আরএ