দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাতক্ষীরায় বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে ফাল্গুনি দোল উৎসব। শহরের ঐতিহ্যবাহী মায়ের বাড়ি প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই ভিড় করেন ভক্ত, দর্শনার্থী ও নানা বয়সী মানুষ। আবিরের রঙে রাঙিয়ে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান তারা।
মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) সকাল থেকে সারাদিন উৎসব ঘিরে বাঙালিয়ানায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা; চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা।
উৎসবে আসা ডা. সুশংকর রায় জানান, দোল মূলত বসন্তের আগমনী উৎসব। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অসুর রাজা হিরণ্যকশিপুর অত্যাচার থেকে ভক্ত প্রহ্লাদকে রক্ষার স্মরণে এই উৎসবের প্রচলন। আগুনে দগ্ধ হয়েও প্রহ্লাদ বেঁচে যান, আর ধ্বংস হয় অন্যায় ও অহংকারের প্রতীক হোলিকা। সেই থেকেই ‘অশুভের বিনাশ ও শুভের জয়’ এই বার্তাই বহন করে দোল বা হোলি। সময়ের পরিক্রমায় এটি শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো বাংলাদেশেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে দোল বা হোলি উদযাপিত হয়।
শিক্ষক অতনু বোস সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরার মায়ের বাড়ি প্রাঙ্গণে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি। শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস আর তরুণদের নাচ-গানে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে রঙ খেলায় মেতে ওঠেন, কেউবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। পল্লব দাশ বলেনম হোলি কেবল রঙের উৎসব নয় এটি ভালোবাসা, ঐক্য ও সহমর্মিতার প্রতীক। এ দিন সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষ একে অপরের কাছাকাছি আসে।
ডা. নিপা রায় জানান, উৎসব উপলক্ষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিভিন্ন প্রস্তুতি। প্রাঙ্গণ সাজানো হয় রঙিন ব্যানার ও আলোকসজ্জায়। দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় গান, কীর্তন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। যা উৎসবে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।
অনেকে বলেন, এমন আয়োজন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি চোখে না পড়লেও আয়োজকদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। স্বেচ্ছাসেবকরা উৎসবস্থলে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
অনন্যা দাশ বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এক সুতোয় গাঁথার বার্তা দিয়ে শেষ হয় হোলির এই আয়োজন। রঙের উচ্ছ্বাসে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় সাতক্ষীরা; সম্প্রীতির বন্ধনে আরও দৃঢ় হয় সামাজিক সম্পর্ক।
আরএ