দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফেনীর সোনাগাজীতে এক জামায়াত কর্মীর স্ত্রীর ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় আইয়ূব নবী তারেক (২৬) নামে এক তাঁতি দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে ওই পরিবারের সদস্যরা।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের গুণক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আইয়ূব নবী বগাদানা ইউনিয়ন তাঁতি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গুণক গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ, নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী ও দলীয় সূত্র জানায়, ওই গ্রামের ওহিদুর রহমানের স্থানীয় জামায়াত কর্মী নাহিদ তার স্ত্রীকে দীর্ঘদিন যাবৎ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। এর আগেও একাধিকবার তাঁতি দল নেতা তারেক বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় ফের নাহিদের স্ত্রী তার ওপর নির্যাতনের বিচার চেয়ে তারেককে ওই বাড়িতে ডেকে নেন। তারেক নাহিদ ও তার পরিবারের সদস্যদের মামলা দিয়ে নির্যাতনের শাস্তি দিবেন বলে ভয়ভীতি দেখান। এ সময় জামায়াত কর্মী নাহিদ, তার ভাই আবু সাঈদ, পিতা ওহিদুর রহমান এবং মা নুর নাহার মিলে তারেককে ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে এবং লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্য নিশ্চিত করেন।
উপজেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতি দলের সদস্য সচিব আবদুল আল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধ থেকেই তাকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
নিহত তারেকের পিতা কামাল উদ্দিন জানান, ভোটের সময় থেকে তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করে ওই জামায়াত পরিবারের সদস্যরা। ইফতারের পর ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। আমি দোষীদের শাস্তি চাই।
উপজেলা জামায়াতের আমির মাও. মো. মোস্তফা জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। পারিবারিক কারণে এ ঘটেছে। আরও খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছি।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আরএ