দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সুনামগঞ্জে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি নিয়মাবলী উপেক্ষা করে চিকিৎসকরা নিজেদের মতে রুটিন তৈরি করে রোগীদের হয়রানি করছেন—এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
সারাদিন রোগীদের বসিয়ে রেখে, শেষ মুহূর্তে চিকিৎসা না দিয়েই তাদের ফিরিয়ে দেওয়া এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার মাইনর সার্জারি সেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর সঙ্গে এমনই একটি ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীদের একজন, যিনি পেশায় সরকারি চাকুরিজীবী— জানান, ছুটির দিনে চিকিৎসা নিতে তিনি সকাল ১০টা থেকে হাসপাতালে অপেক্ষা করছিলেন। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলামের মৌখিক নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন।
একজন চিকিৎসক ছুটিতে থাকার অজুহাত দেন, অন্য একজন একটি অপারেশন শেষ করে ক্লান্তির কথা জানান এবং রোগীকে পরদিন আসতে বলেন।
দুপুর ২:৩০ পর্যন্ত হাসপাতালের বিভিন্ন টেবিল ও চিকিৎসকের কক্ষে ঘুরেও কোনো বিশেষজ্ঞ সেবা পাননি ওই রোগী। পরে আরএমও’র হস্তক্ষেপে জরুরি বিভাগের একজন আউটসোর্সিং কর্মী তার মাইনর সার্জারি সম্পন্ন করেন। যদিও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন, তারা কেন সেবা প্রদান করেননি—এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের আরএমও ডা. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “অনেক সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রশাসনিক নির্দেশনা মানতে চান না। সেবা প্রদান সম্ভব না হলে রোগীদের সকালে জানিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। এভাবে সারাদিন বসিয়ে রাখা মোটেও কাম্য নয়।”
এদিকে, স্থানীয় রোগীদের অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক ডা. লিপিকা প্রতিদিন সকাল ৯টায় অফিসে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি নিয়মিত দেরিতে আসেন। তিনি নিজে ওয়ার্ডে রোগী না দেখে মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে রাউন্ড করান।
আরও অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ডিউটির চেয়ে তিনি প্রাইভেট ক্লিনিকে বা ব্যক্তিগত চেম্বারে অপারেশন করতেই বেশি আগ্রহী। বিশেষ করে অফিস সময়েই সুনামগঞ্জের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশন করতে যান—এমন অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া হাসপাতালের একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও, আউটডোরে অফিস চলাকালে দুপুর ১২টার আগে নিয়মিত কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া যায় না, যদিও সকাল ৯টা থেকে আউটডোরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার কথা।
এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, যদি দ্রুত তদন্ত না করা হয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটির প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এবি/