দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) আসনের নির্বাচনী মাঠে যখন প্রার্থীরা ব্যস্ত বিশাল কর্মীবাহিনী, বাহারি গাড়ির বহর আর উচ্চবাজেটের প্রচারণায়—ঠিক তখনই এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। পুরোনো একটি সাইকেলের প্যাডেল চেপে, কাঁধে ঝুলানো হ্যান্ডমাইক এবং আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্য "ঢেঁকি" প্রতিক সঙ্গে নিয়ে একাই গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরছেন এক স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিনি মো. আজিজার রহমান (বিএসসি)—পেশায় শিক্ষক, স্থানীয় দড়ি জামালপুর রোকেয়া সামাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
আজিজার রহমানের বাড়ি সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের খোদা বকস গ্রামে। ব্যক্তিগত জীবনের মতোই তার নির্বাচনী প্রচারণাও সাদামাটা ও সহজ-সরল। তার নেই কোনো মোটরসাইকেল, জিপ বা প্রচারণার গাড়ি। নেই বেতনভুক্ত কর্মীবাহিনী কিংবা পোস্টার–ব্যানারের জাঁকজমক। আছে শুধু বহু বছরের পুরোনো একটি বাইসাইকেল এবং নির্বাচনের জন্য কেনা একটি হ্যান্ডমাইক।
প্রতিদিন কাক ডাকা ভোরে তিনি কাঁধে হ্যান্ডমাইক ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়েন। সাইকেল চালিয়ে ছুটে যান হাট-বাজার, গ্রামের চৌরাস্তা, মানুষের উঠোনে। কোথাও দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, কোথাও আবার ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়। একাই সভা করেন, একাই শোনেন মানুষের কথা। এভাবে গাইবান্ধা-৩ আসনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইতোমধ্যেই তিনি শতাধিক পথসভা ও উঠান বৈঠক করেছেন।
নির্বাচনী মাঠে আজিজার রহমান নতুন নন। এর আগেও তিনি উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এবং সংসদ উপ-নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। বিজয়ের দেখা না পেলেও জনসেবার অঙ্গীকার থেকে তিনি বারবার মাঠে নেমেছেন। এবারও তার মূল প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা—শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার সহজপ্রাপ্যতা, দুর্নীতিমুক্ত স্থানীয় উন্নয়ন এবং জনপ্রতিনিধির সঙ্গে জনগণের সরাসরি যোগাযোগ।
আজিজার রহমান বলেন, “আমার কাছে বড় কোনো বাহন বা বিশাল টিম নেই। কিন্তু মানুষের কাছে গিয়ে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি। এই সরাসরি যোগাযোগ থেকেই আমি সবচেয়ে বেশি সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষকে সঙ্গী করেই উন্নয়নের কাজ করতে চাই।”
তার এই ব্যতিক্রমী প্রচারণা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলেছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে অনেকেই তার অধ্যবসায় ও সাধারণ জীবনধারাকে আখ্যা দিচ্ছেন ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য’ ও ‘সত্যিকারের জনসংযোগ’ হিসেবে। কেউ কেউ তাকে বলছেন ‘গণতন্ত্রের প্রকৃত সৈনিক’।
এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রায় ৫ লাখ ৬ হাজার ভোটারের এই আসনে প্রচারণার শেষ সময়ে বড় দলগুলোর প্রার্থীরা যখন সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে, তখন আজিজার রহমানের এই নিঃসঙ্গ কিন্তু নিরেট প্রচেষ্টা স্থানীয়দের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।
সাধারণ ভোটারদের অনেকের ভাষ্য—আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হোন কিংবা না হোন, তার এই সাইকেলচালিত যাত্রা ইতোমধ্যেই একটি শক্ত বার্তা দিয়ে গেছে। রাজনীতির বাণিজ্যিকীকরণ ও জাঁকজমকের এই সময়ে তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন, মানুষের কাছে পৌঁছাতে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সদিচ্ছা। বড় বাজেট বা বিশাল বহর নয়—মানুষের সাথে সরাসরি সংযোগই হতে পারে রাজনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।
আজিজার রহমানের এই প্রচারণা তাই শুধু ভোটের লড়াই নয়; এটি এক এক নীরব প্রতীকী প্রতিবাদ এবং গভীর অর্থবহ গণতান্ত্রিক যাত্রা।
আরএ