দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীর পর্যটন শহর কুয়াকাটার সাগর ও উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রের পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও দূষণের কারণে জোয়ারের সঙ্গে ভেসে আসছে অসংখ্য জীবিত ও মৃত জেলিফিশ।
প্লাস্টিক বর্জ্য, তেল ও রাসায়নিক পদার্থ পানিতে মিশে জেলিফিশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। অনেক সময় প্লাস্টিককে খাবার ভেবে গিলে ফেলায় তারা মারা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেলিফিশের মৃত্যুর পেছনে প্রকৃতির পাশাপাশি মানবসৃষ্ট কারণও দায়ী।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ২৯ কিলোমিটারের দৈর্ঘ্যের প্রায় ১৯ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এসব মৃত জেলিফিশ। তবে জেলিফিশগুলোর কোনোটি আকারে ছোট, আবার কোনোটি বেশ বড়। তবে নরম, স্বচ্ছ ও ছাতার প্রকৃতির জেলিফিশগুলো দেখতে অক্টোপাসের মতো হলেও স্থানীয় জেলেদের কাছে এগুলো ‘লোনা’ নামে পরিচিত।তবে হঠাৎ করেই ভেসে আসা এসব জেলিফিশে বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক দম্পতি সারুখ ও শাহনাজ বলেন, জেলিফিশের দুর্গন্ধ ও পিচ্ছিল অবস্থার কারণে বাচ্চাদের নিয়ে সৈকতে হাঁটাচলাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত সরিয়ে না নিলে এগুলো পচে সৈকতের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হবে।
তবে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জেলেরা বলছেন, সরকারের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া লাগে না। বর্তমানে জেলিফিশগুলোই আমাদের জেলেদের অবরোধ দিয়ে রাখছে। সমুদ্রে জাল ফেললেই মৃত জেলিফিশগুলো এসে জালে পেঁচিয়ে যাচ্ছে, জাল ছিঁড়ে নিচ্ছে। এতে করে আমাদের এখন মাছ ধরা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। এছাড়া এসব মৃত জেলিফিশগুলো শরীরে লেগে চুলকাচ্ছে, চোখ জ্বালাপোড়া করছে, খুবই সমস্যায় আছি।
পরিবেশ কর্মীরা বলছেন, জেলিফিশের জীবনচক্র তুলনামূলকভাবে স্বল্প। প্রজননের পর অনেক প্রজাতির জেলিফিশ স্বাভাবিকভাবেই মারা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক হারে মৃত্যুর পেছনে পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রভাব বেশি।
জেলিফিশের মৃত্যু সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য একটি সতর্ক সংকেত বলে মনে করছেন উপকূল ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার। তিনি বলেন, মৃত জেলিফিশগুলো পচে সৈকতে পড়ে থাকলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এগুলো কেন মারা যাচ্ছে, সে বিষয়ে গবেষণা জরুরি। পাশাপাশি দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও সাগরের পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, সমুদ্রে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত জেলেদের জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে এসব জেলিফিশ। এসব জেলিফিশগুলোকে জেলেরা সমুদ্রে ফেলে দেওয়ায় সেগুলো ভেসে এসে কুয়াকাটা সৈকতের বেলাভূমিতে আটকে পড়ছে। তাই সমুদ্র দূষণ রোধের পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের মার্চ মাসেও কুয়াকাটা সৈকতে এ ধরনের বিপুল সংখ্যক জেলিফিশ ভেসে এসেছিল। সে সময় কুয়াকাটা পৌরসভা ও জেলেদের যৌথ উদ্যোগে জেলিফিশগুলো বালুতে পুঁতে ফেলা হয়।
এবি/