দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির এক প্রার্থীকে হেনস্তার পাশাপাশি বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় এক নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে শরীয়তপুর সরকারি কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে শরীয়তপুর-১ আসনের আটজন সংসদ সদস্য প্রার্থী অংশ নেন। তারা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী নূর মোহাম্মদ মিয়া বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। এ বক্তব্যের পরপরই উপস্থিত বিএনপি সমর্থকদের একাংশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তাকে স্টেজ থেকে নামিয়ে দেন এবং হেনস্তা করেন।পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বাংলা কলেজ শাখার নেতা মাহমুদ পারভেজ ঘটনার প্রতিবাদ জানান। এ সময় তার ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তাকে কিল-ঘুষি মারার পাশাপাশি চেয়ার দিয়েও আঘাত করা হয়।পরবর্তীতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য প্রার্থীদের অনুরোধে এবং পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী নূর মোহাম্মদ মিয়া বলেন, এ ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। আমরা নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলছি, কিন্তু বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। আমি দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলেছি এবং সমাধানের কথা বলেছি। এতে বাধা দেওয়া হলে বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

গণ-অধিকার পরিষদের প্রার্থী ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, একজন প্রার্থীর মত প্রকাশের অধিকার আছে। কেউ ভুল বললে তার রাজনৈতিক জবাব দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু হেনস্তা বা হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধার সঙ্গে এমন আচরণ আমাকে শঙ্কিত করেছে।
হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, ভোটাররা তথ্যভিত্তিক আলোচনা প্রত্যাশা করেছিলেন। বক্তব্যটি তথ্যসমর্থিত না হওয়ায় এমন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তবে পুরো ঘটনাই দুঃখজনক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়।
এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, ঘটনাস্থলে কিছু সময়ের জন্য হট্টগোল সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
জে আই